নয়াদিল্লি: বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ককে নৈতিক অধঃপতন বলা যাবে না। এমনটাই রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট (Taslima Nasrin)। এই রায়কে সমর্থন করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত সাহিত্যিক তাসলিমা নাসরিন। তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, অনেক দেরিতে হলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে স্বীকার করেছে যে দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিসূচক সম্পর্ককে অপরাধ বা খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। তাঁর মতে, একটি সম্পর্কের আসল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং সম্মতি। শুধুমাত্র একটি বিবাহের সনদ কোনও সম্পর্কের সাফল্য বা স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারে না।
সাহিত্যিকের বক্তব্যে উঠে এসেছে বর্তমান সমাজে সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাও। তিনি মনে করেন, অনেক মানুষ বৈবাহিক জীবনে থেকেও অসুখী থাকেন, আবার অনেকেই বিয়ে ছাড়াই দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ও সুখী সম্পর্কে জীবন কাটান। তাঁর মতে, কাউকে সত্যিকারের চেনার জন্য একসঙ্গে থাকা এবং জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একসঙ্গে বসবাস করে পরস্পরের সঙ্গে মানসিক ও সামাজিক সামঞ্জস্য বিচার করা যুক্তিসঙ্গত।
আরও দেখুনঃ শান্তিকালীন সময়ে ১২ পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন ভারতের! বাড়ছে জল্পনা
তাসলিমা আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন যে আধুনিক সমাজে বিয়ে ক্রমশ একটি অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। তাঁর মতে, অতীতে যখন নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা সীমিত ছিল, তখন বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে দুই স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভালোবাসা ও পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করার জন্য বিয়ের সনদের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, যদি ভালোবাসা থাকে, তবে সম্পর্ক টিকে থাকবে; আর যদি ভালোবাসা না থাকে, তাহলে কাগজে লেখা কোনও সম্পর্ক তাকে রক্ষা করতে পারবে না।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যারা বিয়ে করতে চান, তাদের সেই স্বাধীনতা থাকা উচিত। আবার যারা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে চান, তাদেরও সমান স্বাধীনতা প্রাপ্য। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের ভূমিকা হওয়া উচিত নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং তাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষা করা।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং তাসলিমার এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ মনে করছে, এটি ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আধুনিক সম্পর্কের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে রক্ষণশীল মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ ভারতীয় সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ এবং পারিবারিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেকেই অভিযোগের সুরে বলেছেন প্রথমে আইনি স্বীকৃতি আসে, তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের মনোভাব বদলাতে শুরু করে। নারীর অধিকার, আন্তঃধর্ম বিবাহ বা সমানাধিকারের মতো বহু বিষয়েই অতীতে এমন প্রবণতা দেখা গেছে।




















