স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলার ফুটবলে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উঠে এসেছে ডায়মন্ড হারবার এফসির (Diamond Harbour FC) নাম। আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ক্লাবটি ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে এই সাফল্যের মাঝেই ক্লাবটিকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এবার সেই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
Read English: Diamond Harbour FC Under Scanner as Bengal Sports Department Launches Probe
সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ডায়মন্ড হারবার এফসিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ক্লাবের গঠন প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন। তাঁর দাবি, ক্লাবটি সমস্ত নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ক্রীড়া দপ্তর। পাশাপাশি ক্লাবের তহবিলে আসা অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
নিশীথ প্রামাণিক আরও জানান, তদন্তের প্রয়োজনে ক্লাবের স্পনসরদের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে। স্পনসরদের মাধ্যমে ক্লাবে অর্থ প্রবাহের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম বা অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডায়মন্ড হারবার এফসির অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত একটি মাঠ নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। ওই জায়গা বেআইনিভাবে দখল করে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই সেই জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।
এই বিষয়ে রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, সমস্ত তথ্য ও নথি যাচাই করে দ্রুত একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।
এছাড়াও ক্লাবের ফুটবলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর অভিযোগ, এমন কিছু ফুটবলারকে ক্লাবে যুক্ত করা হয়েছিল যাঁরা সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত। এই বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সরকার কোনও ক্লাবের উন্নতির বিরুদ্ধে নয়। বরং বাংলার প্রতিটি ক্লাব ভালো খেলুক এবং সাফল্য অর্জন করুক, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু যদি কোনও ক্লাবের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এখনও পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার এফসি বা ক্লাবের কোনও পদাধিকারীর তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে অভিযোগ ও তদন্ত ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও বাড়ছে। একইসঙ্গে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি সম্পর্কেও কিছু অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। ফলে আগামী দিনে বাংলার ফুটবল প্রশাসনে এই তদন্তগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


















