বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) । এদিন তিনি শহর ও শহরতলির দ্রুত নগরায়ন এবং নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পনাহীন নির্মাণ এবং সবুজ এলাকার ক্রমহ্রাসমান পরিমাণ ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বৃহত্তর কলকাতা ধীরে ধীরে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে। চারদিকে শুধু বহুতল নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।” তিনি জানান, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট এলাকার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ অংশ সবুজ রাখার কথা। (Suvendu Adhikari) সেখানে গাছপালা, বাগান বা খোলা সবুজ পরিসর সংরক্ষণ করার নির্দেশিকা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর(Suvendu Adhikari) মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, “যাঁরা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করেন, তাঁরা নিয়ম সম্পর্কে অবগত। তবুও বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় সবুজ এলাকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। এর ফলে শহরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ এবং জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা আরও বাড়ছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, লাগাতার কংক্রিটের বিস্তার শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খোলা জায়গা ও সবুজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নগরবাসীর জীবনযাত্রার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শহরে পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা না থাকলে তাপপ্রবাহের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে এবং পরিবেশগত নানা সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিন পরিবেশ(Suvendu Adhikari) রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইকো ক্লাব গঠনের উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী(Suvendu Adhikari) । তিনি ঘোষণা করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব বা সামাজিক সংগঠন যদি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের উদ্দেশ্যে ইকো ক্লাব তৈরি করে, তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষার কাজে যুক্ত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু একটি দিন পরিবেশ দিবস পালন করলেই হবে না। সারা বছর পরিবেশ রক্ষার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। গাছ লাগানো, জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো এবং সবুজ এলাকা রক্ষা করার মতো উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে হবে।” তিনি সকলকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের (Suvendu Adhikari) অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরাও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা আজকের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং সবুজ পরিসর সংরক্ষণে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি।



















