কলকাতা: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাজ্যের পরিবেশ রক্ষায় একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নলবনের এক অনুষ্ঠান থেকে একদিকে যেমন বৃক্ষরোপণে জোর দিলেন তিনি, অন্যদিকে তেমনই রাজ্য জুড়ে পরিবেশ সচেতনতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া নিয়মের বার্তা দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন পরিবর্তনের সরকার হাসপাতাল, কর্মসংস্থান আর বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিবেশ ও অরণ্য রক্ষাকেও সমানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
পরিবেশ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেশজুড়ে চলা ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির আদলে রাজ্যেও বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা করেন। সেই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে তিনি বলেন, “আমরা রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগাব। তবে শুধু গাছ লাগালেই চলবে না, সেগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। গাছের চারা যাতে ভবিষ্যতে মহীরূহে পরিণত হতে পারে, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে।”
ধর্মীয় স্থানে স্বচ্ছতা ও কংক্রিটের জঙ্গল নিয়ে ক্ষোভ
রাজ্যের ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রগুলির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এদিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির আশ্রমের মতো সমস্ত ‘আস্থার’ জায়গার বাইরের পরিবেশের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে এবং সেখানে কঠোরভাবে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের আমলের উদাসীনতাকে বিঁধে কলকাতার নগরায়ণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আকাশপথে দেখলে বোঝা যায় বৃহত্তর কলকাতা, অর্থাৎ বারাসত থেকে সোনারপুর পর্যন্ত শুধু কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হয়েছে কিন্তু সেই অনুপাতে বৃক্ষরোপণ করা হয়নি। এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় গাছ লাগানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। তবে এই পরিবর্তনের সরকার পরিবেশের বিষয়ে কোনও আপস করবে না।”
অবশ্যম্ভাবী এক-তৃতীয়াংশ সবুজায়ন
ভবিষ্যতে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন সরকার একগুচ্ছ কড়া নিয়ম কার্যকর করতে চলেছে। এখন থেকে যে কোনও আবাসন প্রকল্প (হাউজিং), ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা, সরকারি পরিকাঠামো নির্মাণ কিংবা জাতীয় ও রাজ্য সড়ক তৈরির ক্ষেত্রে মোট প্রকল্পের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বা ১/৩ অংশে বাধ্যতামূলকভাবে গাছ লাগাতে হবে।
স্কুল স্তরে পরিবেশ পাঠ ও ইকো ক্লাব
ছোটবেলা থেকেই যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে ওঠে, তার জন্য বড়সড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্কুল শিক্ষায় পরিবেশবিদ্যার গুরুত্ব আরও বাড়ানো হবে। পড়ুয়াদের সিলেবাসে পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি স্কুলগুলিতে ‘ইকো ক্লাব’ (Eco Club) তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। যে সমস্ত স্কুল এই পরিবেশ সচেতনতার কাজে এগিয়ে আসবে এবং সক্রিয়ভাবে ইকো ক্লাব চালাবে, তাদের রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিচ্ছন্নতায় হাতিয়ার ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’
বাংলাকে আবর্জনামুক্ত ও পরিষ্কার রাখতে এদিন একটি বিশেষ ডিজিটাল প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, শীঘ্রই রাজ্যে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ কার্যকর করা হচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্যের যে কোনও নাগরিক কোথাও নোংরা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখলে তার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন। ছবি পাওয়া মাত্রই প্রশাসনের তরফে দ্রুত সেই নোংরা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবেই প্রযুক্তির সহায়তায় গোটা বাংলাকে স্বচ্ছ রাখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।




















