গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) । বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, রাজ্য সরকার গঙ্গাসাগরকে বিশ্বমানের তীর্থ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কপিলমুনি আশ্রম সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতের সংস্কার এবং গঙ্গার তীরবর্তী একাধিক ঐতিহ্যবাহী ঘাটের আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, গঙ্গাসাগর মেলা শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, সমগ্র দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী দেশ-বিদেশ থেকে এখানে আসেন। সেই কারণে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অবকাঠামো ও পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, (Suvendu Adhikari) গঙ্গাসাগরের অন্যতম আকর্ষণ কপিলমুনি আশ্রমের আশপাশের বিচ এলাকা নতুনভাবে সাজানো হবে। সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। বিচ এলাকায় বসার জায়গা, আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা এবং পর্যটকবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। এর ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে গঙ্গাসাগরের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে কলকাতা এবং গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলির উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গঙ্গার পারে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এর মধ্যে বাগবাজার ঘাট এবং আহিরীটোলা ঘাটের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। (Suvendu Adhikari) পাশাপাশি আরও কয়েকটি ঘাটের সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন এবং আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের মতে, (Suvendu Adhikari) এই ঘাটগুলি শুধু ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র নয়, কলকাতার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ঘাটগুলিকে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করে তোলার পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী চরিত্রও বজায় রাখা হবে। উন্নত আলোকসজ্জা, নিরাপদ সিঁড়ি, বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই এই সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরকে সেই অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।




















