কলকাতা: ধর্মের কল বাতাসে নড়বে। এমনটাই ভবিষ্যৎবাণী করলেন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তিনি বলেছেন আজ যারা মমতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তারা একদিন ঠিকই বুঝবেন কর্মফল কি জিনিস। মানুষ তাদের বিচার করবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙ্গন। আর সেই ভাঙ্গনে আলাদা হয়ে গিয়েছে আদি নব্য দুজনার দুটি পথ। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নব্য তৃণমূলে রয়েছেন ৫৯ জন বিধায়ক এবং তারা প্রত্যেকেই মমতাকে দলনেত্রী হিসেবে মানলেও অভিষেক বিরোধী।
তবে মমতাকে দলনেত্রী মানলেও দলের রাশ আর তার হাতে নেই তা বলাই বাহুল্য, কারণ সংখ্যা গরিষ্ঠতার নিরিখে অনেক বেশি বিধায়ক ঋতব্রতকে সমর্থন করেছেন। ফলে তৃণমূল ভেঙে খান খান। শোভনদেব চট্টপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাবে সই জাল ঘিরে শুরু হয়েছিল এই বিতর্ক। অভিযোগ ছিল অভিষেক সই জাল করেছেন। এই অভিযোগ তোলার পরই দল থেকে বহিস্কৃত হন সাংসদ ঋতব্রত এবং বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
আরও দেখুনঃ ডবল ইঞ্জিন সরকারের হকার উচ্ছেদ! হাতে ভিক্ষার বাটি নিয়ে প্রতিবাদ দমদমে
ঠিক তারপরেই তাদের ডাকে সমর্থন দেন ৫৯ জন বিধায়ক। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই কল্যাণের এই ভবিষ্যৎবাণী। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, যারা আজ দিদির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তাদের চরিত্র বিজেপির থেকে আলাদা নয়। তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরাই দলের আসল শক্তি। তাঁরা অতীতে মমতার পাশে ছিলেন, আজও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। যারা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, জনগণই একদিন তাঁদের বিচার করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ভাঙন তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের অন্দরে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে জমছিল। টিকিট বিতরণ, স্থানীয় নেতৃত্বের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ অনেক বিধায়ককে ক্ষুব্ধ করেছে। এখন সেই ক্ষোভ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এছাড়াও দলের অন্দরেও অনেকেই দাবি তুলেছেন যে এই মুহূর্তে তৃণমূলকে বাঁচাতে গেলে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করা প্রয়োজন মমতার।




















