পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের আবহ। (Maa Canteen)এই আবহেই রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প মা ক্যান্টিনের নাম বদলে গেল। আজ নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘মা আহার’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতায় ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নতুন মূর্তি স্থাপনের বিষয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই মূর্তির ভূমি পূজন হবে আগামী ৬ মে।
রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে ‘মা ক্যান্টিন’ দীর্ঘদিন ধরেই একটি পরিচিত নাম। স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহের মাধ্যমে এই প্রকল্প বহু শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং পথচলতি নাগরিকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এখন দাবি করা হচ্ছে, প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘মা আহার’ করা হলেও এর মূল লক্ষ্য ও পরিষেবা বজায় থাকবে। বরং পরিষেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ আগের মতোই মাত্র ৫ টাকায় খাবার পাবেন। তবে নতুন সংযোজন হিসেবে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত পরিবেশনের কথাও সামনে এসেছে। এর ফলে প্রকল্পের পুষ্টিগুণ এবং আকর্ষণ দুটোই বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে মত বিভিন্ন মহলের।
এছাড়া প্রকল্পের বিস্তার ঘটিয়ে আরও ১১০টি নতুন ক্যান্টিন চালুর পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক মানুষ স্বল্পমূল্যে খাবারের সুবিধা পাবেন। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি জেলা ও মহকুমা পর্যায়েও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কলকাতায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নতুন মূর্তি স্থাপনের বিষয়টিও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা চলছে। তাঁর নামে স্মারক, মূর্তি কিংবা জনস্মৃতি-সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নকে নতুন রাজনৈতিক দর্শনের অংশ হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণে নতুন উদ্যোগ এই দুই বিষয়ই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। ফলে এই পদক্ষেপগুলি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষেবার মান এবং সুবিধার পরিধি। নাম পরিবর্তন হলেও যদি কম খরচে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ অব্যাহত থাকে এবং নতুন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হন, তাহলে প্রকল্পটি নতুন পরিচয়ে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।



















