কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসে চলতে থাকা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও বিভেদের ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। (Sandipan Saha)দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে ৮০ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন অনুপস্থিত থাকায় বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হয়েছে। এই অনুপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে অন্যতম হলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
#WATCH | Kolkata, West Bengal | TMC MLA Sandipan Saha, who is one of the 60 MLAs who skipped the pre-scheduled meeting called by Mamata Banerjee yesterday, says, “A meeting has been held before. It included a resolution on who would be the party leader, deputy leader, and chief… pic.twitter.com/zq8JQDg2Nd
— ANI (@ANI) June 1, 2026
বৈঠকে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি সরাসরি দলের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।সন্দীপন সাহা বলেন, “আগে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে দলের লিডার, ডেপুটি লিডার এবং চিফ হুইপ কে হবেন, সেই বিষয়ে রেজোলিউশন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও সেই রেজোলিউশন অ্যাসেম্বলিতে জমা দেওয়ার সময় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
প্রোটোকল মেনে প্রক্রিয়া না মানার কারণে তা স্ক্রুটিনিতে পড়ে। এখন সেটা সাব-জুডিসে চলে গেছে। তারপর আবার আরেকটা বৈঠক ডাকা হল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রক্রিয়া রিভিউ করে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে কি? তাই আমার মনে হয়েছে, এই বৈঠকে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা খেয়ে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসে অসন্তোষ, পদত্যাগ এবং নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন উঠছে।
অনেকেই মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সন্দীপন সাহার মতো বিধায়করা এখন খোলাখুলি সেই প্রশ্নগুলো তুলতে শুরু করেছেন।সূত্র অনুসারে, কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দলের সাংগঠনিক বিষয়, বিধানসভায় ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা।
কিন্তু মাত্র ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত হওয়ায় বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। দলের একাংশের দাবি, অনেক বিধায়ক নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কর্মীদের উপর হামলা-হুমকির মোকাবিলা করতে ব্যস্ত। কিন্তু সন্দীপন সাহার মতো নেতারা মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে গভীর অসন্তোষ এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম।এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ১৫ বছরের শাসনকালে দল যে ধরনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র নেতৃত্ব দেখিয়েছে, তারই ফলস্বরূপ এখন বিধায়করা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন।
সন্দীপন সাহা আরও বলেছেন যে, দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে প্রথমে নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিধানসভায় বিরোধী দলে বসে টিএমসির সামনে এখন দুটি বড় কাজ। একদিকে সরকারের বিরোধিতা করা, অন্যদিকে নিজেদের সংগঠনকে চাঙ্গা করা। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে দলের পুনরুজ্জীবন কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় কাউন্সিলরদের পদত্যাগ, কর্মীদের মধ্যে হতাশা এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।




















