কলকাতা: সোমবার দুপুরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। তবে দলীয় সূত্রে খবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজই তাঁর হাজিরা দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অভিষেক ভবানীভবনে পৌঁছনোর আগেই সিআইডি যেভাবে তড়িঘড়ি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করল, তাতে স্পষ্ট যে এই হাই-প্রোফাইল মামলার জট খুলতে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে নারাজ তদন্তকারীরা। (cid sit investigation signature fraud case)
ঠিক কী ঘটেছিল? জেনে নিন নেপথ্যের কাহিনী
এই গোটা টানাপোড়েনের সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর, ৬ মে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী। সেই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলে উপস্থিত সমস্ত বিধায়ক হাত তুলে তা সমর্থন করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে অফিসিয়াল প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা সেই সময় দেওয়া হয়নি।
এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয় এবং তাঁরা খাতায় নিয়মমাফিক সই করেন। পরবর্তীতে বিধানসভার সচিবের তরফে বিরোধী দলনেতার নাম চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র চাওয়া হলে, গত ১৯ মে ফের কালীঘাটে বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয়।
কোথায় হলো গরমিল?
১৯ মে-র সেই বৈঠকে সব বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু দলের তরফে উপস্থিত বিধায়কদের সই নেওয়ার পাশাপাশি অনুপস্থিতদের তালিকাও তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ৭০ জন বিধায়কের সই সংবলিত একটি সমর্থনপত্র বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দিয়ে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের মূল প্রস্তাবনাপত্র।
আসল গোলমালটি ধরা পড়ে ঠিক এর পরেই। বিধায়কদের শপথগ্রহণের সময় করা সইয়ের সাথে এই প্রস্তাবনাপত্রের সই মেলাতে গিয়েই খটকা লাগে বিধানসভার সচিবের। দুই জায়গার সইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি মেলায় বড়সড় জালিয়াতির সন্দেহ করেন তিনি। আর দেরি না করে সচিব সরাসরি থানায় এফআইআর দায়ের করেন, যার পরই তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে।
তদন্তের রাডারে এবার কারা?
মামলা হাতে নিয়েই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন সিআইডির গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই এই সই বিতর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। গত শনিবারই নোটিস পাঠিয়ে সোমবার ভবানীভবনে তলব করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি আজ হাজিরা দিন বা না দিন, ৫ সদস্যের এই নতুন ‘সিট’ যে এবার তদন্তের পারদ আরও চড়াতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।




















