হুগলির পান্ডুয়ায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হলেন মহম্মদ জাহাঙ্গির (Jahangir)নামে এক ব্যক্তি, যার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং ডাকাতির সরঞ্জাম। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কারণ সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে আলোচিত ফলতার জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে নামের মিল থাকলেও ধৃত ব্যক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া মহম্মদ জাহাঙ্গিরের বাড়ি হুগলির পান্ডুয়া থানার পশ্চিম বালিহাট্টা এলাকায় এবং তাঁর সঙ্গে ফলতার প্রাক্তন রাজনৈতিক প্রার্থীর কোনও সম্পর্ক নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে যে পান্ডুয়ার বোসো এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পান্ডুয়া থানার পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ঘিরে ফেলে। অভিযানের সময় মহম্মদ জাহাঙ্গির এবং তাঁর ছেলে মহম্মদ সেলিমকে আটক করা হয়। পাশাপাশি শেখ ভোম্বল, শেখ রাজু এবং শেখ সাদ্দাম নামের আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযানের সময় কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও দেখুনঃ অস্ট্রেলিয়াকে পুরনো পারমাণবিক সাবমেরিন দেবে আমেরিকা, চুক্তিতে বড় পরিবর্তন
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের মতে, এলাকায় একটি বড় অপরাধমূলক পরিকল্পনার ছক কষা হচ্ছিল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তা ভেস্তে দেয়। এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
অভিযান চলাকালীন ধৃতদের কাছ থেকে একটি দেশি বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ, একটি সাবল, একটি লোহার রড এবং একটি ধারালো চপার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলি সম্ভাব্য ডাকাতির কাজে ব্যবহার করার জন্যই মজুত করা হয়েছিল। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী পাঠানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ধৃত মহম্মদ জাহাঙ্গির সম্পর্কে তদন্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধমূলক মামলার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে মামলা নথিভুক্ত আছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ফলে এই গ্রেফতারির পর পুরনো মামলাগুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে।
এদিকে নামের মিলের কারণে রাজনৈতিক মহলেও কিছুটা চর্চা শুরু হয়। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে জাহাঙ্গির খান নামটি আলোচনায় এসেছিল। তিনি নিজেকে জনপ্রিয় দক্ষিণী চলচ্চিত্রের চরিত্র ‘পুষ্পা’র সঙ্গে তুলনা করে ‘ঝুকেগা নেহি’ সংলাপ ব্যবহার করেছিলেন। পরে অবশ্য পুনর্নির্বাচনের আগে তিনি প্রার্থী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে পান্ডুয়ায় গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গিরের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কোনও যোগ নেই বলে পুলিশ স্পষ্ট করেছে।
রবিবার ধৃতদের চুঁচুড়া আদালতে তোলা হয়। পুলিশ তাদের হেফাজতের আবেদন করতে পারে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা এখন পালিয়ে যাওয়া বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোথা থেকে এল এবং এর সঙ্গে কোনও বড় অপরাধচক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















