পরপর দু’দিন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদকে ঘিরে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। প্রথমে সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Bikash on Abhishek) উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, প্রকাশ্য কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। কাদা ছোড়া, ধাক্কাধাক্কি, এমনকি জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার আবার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর (Bikash on Abhishek) হামলার অভিযোগ সামনে আসে। ফলে পরপর দু’দিন শাসকদলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংসদকে ঘিরে বিতর্কে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন (Bikash on Abhishek) সিপিএম নেতা ও বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য তিনি বারবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। বিশেষ করে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় আইনি লড়াই করার পর দলীয় মহলের একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই বিতর্কের মধ্যেই তাঁর একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল। (Bikash on Abhishek) তিনি বলেছিলেন, “মমতার যখন কেউ থাকবে না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি থাকব।” এই মন্তব্য ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা চলেছে।
এরই মধ্যে (Bikash on Abhishek) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হওয়া হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় রাজনৈতিক হিংসার বিরোধিতা করেছেন। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘যুবরাজ’ সম্বোধন করে বলেন, “এভাবে শারীরিক আক্রমণ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।” তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই গণতান্ত্রিক পরিসরে হওয়া উচিত, কিন্তু শারীরিক আক্রমণ বা হেনস্থা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে শুধুমাত্র হামলার নিন্দা করেই থেমে থাকেননি সিপিএমের এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলকেই দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিই দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিস্ট বিরোধী রাজনীতিকে উসকে দিয়েছে এবং সেই পরিবেশে রাজনৈতিক গুন্ডামি ও অসহিষ্ণুতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash on Abhishek) তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন, “বিজেপি ও তৃণমূল দুটি দলই অন্ধ কমিউনিস্ট বিরোধী আচরণ করে গুন্ডামিকে লালন করেছে, যার পরিণতির কুৎসিত ছবি আজ প্রকাশ পাচ্ছে।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলা না করে ভয় দেখানো, আক্রমণ করা বা হেনস্থা করার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য একদিকে যেমন রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করছে, অন্যদিকে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলের রাজনৈতিক কৌশলেরও সমালোচনা করছে। ফলে তাঁর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।




















