আইপিএলের ফাইনাল মানেই বাড়তি উত্তেজনা, বাড়তি চাপ এবং ইতিহাস গড়ার সুযোগ। এবারের ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, অন্যদিকে গুজরাট টাইটান্স। আহমেদাবাদের মাটিতে দুই শক্তিশালী দলের লড়াই ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
আরসিবির কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব বিশেষ। দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর গত মরশুমে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জিতেছিল তারা। এবার সেই সাফল্য ধরে রেখে পরপর দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের হাতছানি। দলের সবচেয়ে বড় তারকা বিরাট কোহলির জন্যও এটি বিশেষ মুহূর্ত। বহু বছর ধরে যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন, সেটিকে আরও একবার বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে তাঁর সামনে।
তবে গুজরাট টাইটান্সও কম শক্তিশালী নয়। প্রথম কোয়ালিফায়ারে আরসিবির কাছে হারের পর তারা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছেছে। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই শুভমান গিলের দল। গুজরাট জিতলে সেটিও হবে তাদের দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা।
এই ফাইনালে নজর থাকবে দুই অধিনায়কের উপর, রজত পাতিদার এবং শুভমান গিল। প্রথম কোয়ালিফায়ারে পাতিদার অসাধারণ ব্যাটিং করে মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রান করেছিলেন। তাঁর সেই ইনিংসই মূলত আরসিবিকে ফাইনালের টিকিট এনে দেয়। অন্যদিকে শুভমান গিলও দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শতরান করে তিনি দলকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
ফাইনাল যেহেতু আহমেদাবাদে, তাই স্বাভাবিকভাবেই গুজরাট কিছুটা ঘরের মাঠের সুবিধা পাবে। মাঠের চরিত্র, আবহাওয়া এবং পরিবেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা বেশি। তবে শুভমান গিল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ নিতে চান না। তাঁর মতে, ফাইনাল মূলত মানসিক দৃঢ়তার লড়াই। যে দল চাপ সামলাতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।
অন্যদিকে আরসিবি কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম পেয়েছে। প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে সরাসরি ফাইনালে ওঠায় তাদের আর অতিরিক্ত ম্যাচ খেলতে হয়নি। ফলে শারীরিকভাবে তারা তুলনামূলক বেশি সতেজ থাকবে। তবে ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে মানসিক প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রজত পাতিদারের সামনে রয়েছে আরেকটি বড় রেকর্ড। মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মার পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে পরপর দুইবার আইপিএল জয়ের কৃতিত্ব অর্জনের সুযোগ রয়েছে তাঁর। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে ভাবতে নারাজ পাতিদার। তাঁর বক্তব্য, অন্য কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের সেরাটা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
আরসিবির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বোলিং বিভাগ। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজেলউড, জেকব ডাফি এবং রশিক সালামের সমন্বয়ে গড়া পেস আক্রমণ এবারের টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ভুবনেশ্বরের অভিজ্ঞতা এবং উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে আইপিএলের এই ফাইনাল শুধুমাত্র দুই দলের লড়াই নয়, বরং দুই দর্শন, দুই অধিনায়ক এবং দুই স্বপ্নের সংঘর্ষ। বিরাট কোহলির আরেকটি ট্রফির স্বপ্ন পূরণ হবে, নাকি শুভমান গিলের নেতৃত্বে গুজরাট নতুন ইতিহাস গড়বে, তার উত্তর মিলবে আহমেদাবাদের মহারণে।




















