কলকাতা: কলকাতার আকাশছোঁয়া ট্রাম্প টাওয়ার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে (Trump Tower)। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খানের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়েজ আহমেদ খান এই বিলাসবহুল ৪২ তলা আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ফয়েজের দাবি, ট্রাম্প টাওয়ার সম্পূর্ণভাবে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। তাঁর এই অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক ও নির্মাণ শিল্প মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফয়েজ আহমেদ খান স্পষ্টভাবে বলেছেন, “ট্রাম্প টাওয়ারের পুরো ৪২ তলা ভবনটিই নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া, নিয়ম লঙ্ঘন করে এই বিশাল প্রকল্প চালানো হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এত বড় একটি প্রকল্প কীভাবে এতদিন ধরে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারল? কোন কোন নিয়ম ভাঙা হয়েছে? কারা এর পিছনে ছিলেন? এই অভিযোগের ফলে ট্রাম্প টাওয়ারের ক্রেতা, ডেভেলপার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠতে শুরু করেছে।
আরও দেখুনঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনগণনা নিয়ে নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ট্রাম্প টাওয়ার কলকাতা শহরের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে অনেক উচ্চবিত্ত পরিবার এখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু ফয়েজ খানের অভিযোগ এখন সেই স্বপ্নের আবাসনে ফাটল ধরিয়েছে। যাঁরা এখানে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের মধ্যে এখন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ অভিযোগকারী নিজেই টিএমসির একজন প্রভাবশালী নেতার ছেলে এবং কাউন্সিলর। অনেকে মনে করছেন, দলের অন্দরে কোনো অসন্তোষ বা বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটা শহরের অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে একটি বড় সতর্কবার্তা। কলকাতা পুরসভা ও অন্যান্য অনুমোদনকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এত বড় একটি টাওয়ার নির্মাণের সময় ভবন নিয়ম, পরিবেশগত ছাড়পত্র, জমির বৈধতা সহ নানা বিষয় যাচাই করা উচিত ছিল। যদি পুরো ভবনই অবৈধ হয়, তাহলে এর ফলে শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। আদালতে মামলা, ডেমোলিশনের সম্ভাবনা এবং ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




















