নয়াদিল্লি: মৌসম ভবনের তরফে চলতি বছরের বর্ষার পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখে জানানো হয়েছে, এবার দেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম হবে। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের উপরিভাগের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমিক বৃদ্ধির এই খাম খেয়ালিপনা বা ‘এল নিনো’ জুনের শুরুতেই দুর্বলভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে। এরপর জুলাইয়ের মাঝামাঝি এবং আগস্ট মাসের মধ্যে তা মাঝারি শক্তিশালী রূপ নেবে। তবে আসল তাণ্ডব শুরু হবে সেপ্টেম্বর মাসে, যখন এল নিনো তার পূর্ণ শক্তি অর্জন করে গোটা ভারত তথা বিশ্বের আবহাওয়া পরিকাঠামোয় এক বিধ্বংসী প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক স্তরে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দফতর (BOM) এবং চিনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টারও নিশ্চিত করেছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরের তলার জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে গরম হতে শুরু করেছে, যা এল নিনো সক্রিয় হওয়ার প্রধান লক্ষণ। এমনকি নাসার (NASA) স্যাটেলাইট চিত্রেও মহাসাগরের নিচে এক বিশাল উষ্ণ জলভাণ্ডার জমে ওঠার প্রমাণ মিলেছে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এল নিনো দেশে প্রবেশ করা মানেই বর্ষার বিদায়ঘণ্টা বাজা, ঘন ঘন তাপপ্রবাহ এবং তীব্র খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়া। ফলে দেশের কৃষি ব্যবস্থা এবং জলসম্পদের ওপর যে এক মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশ্বজুড়ে একাধিক আবহাওয়া কেন্দ্রের এই একই পূর্বাভাসে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে দেশের কৃষক ও প্রশাসনের।




















