কলকাতা: নবান্নে নতুন সরকার আসতেই রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের কাজ যেমন গতি পেয়েছে, তেমনই অবৈধ নাগরিকদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়াও জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত এই আটক কেন্দ্রগুলিতে মোট ৩৮৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। (West Bengal Illegal Infiltrators Crackdown)
বসিরহাটে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৩০০ পার
রাজ্য সরকারের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত এই আটক কেন্দ্রগুলিতে মোট ৩৮৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বারুইপুর, সুন্দরবন, বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও কৃষ্ণনগরের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মালদা, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও এই আটক শিবিরগুলি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্ডার সংলগ্ন বসিরহাট জেলাতেই অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে তিনটি বিশেষ শিবিরের মোট ৩৩৫ জন (১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন মহিলা এবং ৮৮ জন শিশু) আটক রয়েছে। এর পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, যেখানে ১৯ জনকে রাখা হয়েছে। বাকি জেলাগুলির মধ্যে মালদায় ৯ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮ জন, বারুইপুরে ৫ জন, বারাসতে ৩ জন এবং কোচবিহার, জঙ্গিপুর, সুন্দরবন, বনগাঁ ও কৃষ্ণনগরে ১ থেকে ২ জন করে অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
এই ডামাডোলের মাঝেই মেদিনীপুরের সভা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বতন সরকারকে তোপ দেগে তিনি বলেন যে, বিগত সরকারের আমলে প্রতিদিনই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত, কিন্তু শুভেন্দু এবং বাংলার বিজেপি সরকার ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করার পর এখন তারা নিজেরাই ফিরে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা যদি শনাক্তকরণ অভিযান (Identification Drive) শুরু হওয়ার আগে নিজ উদ্যোগে বা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যায়, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি মামলা করবে না; বরং তাদের সুরক্ষিতভাবে নিজের দেশে ফিরে যেতে সবরকম সাহায্য করবে। কেন্দ্রের এই কড়া অবস্থান ও রাজ্যের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর বর্ডার সংলগ্ন জেলাগুলিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।




















