হলদিয়া: প্রথম দফার ভোটের দিন হলদিয়ার এক বাসিন্দাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় প্রদর্শন এবং তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আরমান ভোলা ও তাঁর সহযোগী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার রাজারহাট এলাকা থেকে আরমানকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হলদিয়া থেকেই পাকড়াও করা হয় তার সহযোগী অরুণাভ কুইতিকে। বুধবার ধৃতদের হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। (TMC leader Arman Bhola arrested in Haldia robbery case)
নিশানা বিজেপি বিধায়কের
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের পর এই গ্রেফতারির ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় রাজনীতির পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজলী এই ঘটনায় তৃণমূল শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ও তো একটা তোলাবাজ, তৃণমূলের আশ্রিত তোলাবাজ এবং ডাকাত। ভোটের ফল ঘোষণার দিনই ও পালিয়ে গিয়েছিল। আজ ও ধরা পড়ায় হলদিয়ার মানুষ শান্তি পেয়েছে।”
বিজেপি বিধায়ক আরও যোগ করেন, “আমাদের সরকার পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, তৃণমূলের আশ্রয়ে থাকা এই ধরণের সমস্ত ডাকাতদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। গত ১৫ বছর ধরে এরা হলদিয়ায় ডাকাতি ও রাজত্ব চালিয়েছে।” আরমানের বাকি সহযোগীদের ওপরেও পুলিশকে নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
নীরব তৃণমূল, তদন্তে পুলিশ
পৌরসভা ও শিল্পাঞ্চল স্তরে এই গ্রেপ্তারির জেরে শোরগোল পড়ে গেলেও, বিজেপির তোলা এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সম্পূর্ণ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য বা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে হলদিয়া থানার পুলিশ।



















