কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরে গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর উদ্ধার(Ajit Saha)। তৃণমূল নেতা অজিত সাহা এবং তাঁর ভাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র, শতাধিক কার্তুজ এবং বিদেশি মদ। গোটা ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোবরডাঙা থানার পুলিশ এই অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে অজিত সাহার বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মছলন্দপুর এলাকায় হানা দেয় গোবরডাঙা থানার বিশেষ দল।
আরও দেখুনঃ রেলে ৬৫০০-র বেশি পদে টেকনিশিয়ান নিয়োগ, জানুন বিস্তারিত
অভিযান চলাকালীন পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেতা অজিত সাহা ও তাঁর ভাইকে গ্রেফতার করে। তল্লাশিতে তাঁদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা নগদ। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
তবে নগদ টাকার থেকেও বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের হেফাজত থেকে ৬২৬টি তাজা গুলি, ৬১টি গুলির খালি খোকা, একটি ৭ এমএম পিস্তল এবং একটি এয়ার পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ কার্তুজ কোনও সাধারণ ব্যক্তির কাছে থাকা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এর পেছনে বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও সুবীর সাহার বাড়ি থেকে ৫২ বোতল বিদেশি মদ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই মদ বৈধ লাইসেন্সে রাখা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি এবং দাপট দেখানোর অভিযোগ ছিল। যদিও এত বিপুল অস্ত্র-কার্তুজ এবং নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষও কার্যত হতবাক।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনায় শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ক্রমশ সামনে আসছে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজ কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এগুলি কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না। একই সঙ্গে তোলাবাজির অভিযোগের আর্থিক লেনদেনের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মোবাইল ফোন, নথিপত্র এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মছলন্দপুরের এই ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিল।




















