পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় গভীর রাতে পুলিশ এবং প্রশাসনের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হল (Tarun Kumar Maity)বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। প্রায় ৬০০টি সরকারি ত্রিপল বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। এই ঘটনায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি সামনে আসে বিজেপি নেতা দিব্যেন্দু অধিকারীর অভিযোগের পর। তিনি দাবি করেন, এগরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতির মদতেই পানিপারুল এলাকার একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল লুকিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়িটি শিবশঙ্কর ভারতী বা দুর্গাশঙ্কর ভারতীর বলে পরিচিত। অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
আরও দেখুনঃবাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্করকে জেরা করে পাটক্ষেতে মিলল ১০ কোটি
২৬ মে গভীর রাতে এগরা থানার পুলিশ এবং স্থানীয় বিডিও যৌথভাবে ওই এলাকায় হানা দেয়। আচমকা তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির ভিতর থেকে একের পর এক সরকারি ত্রিপল উদ্ধার হতে থাকে। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধার হওয়া ত্রিপলগুলির সংখ্যা প্রায় ৬০০। এগুলি মূলত বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারের তরফে বরাদ্দ করা হয়েছিল।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বহু স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ যখন দুর্যোগের সময় সরকারি সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন সেই ত্রাণ সামগ্রী গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। ক্ষুব্ধ জনতা প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে শুরু করেন।
স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সরকারি ত্রাণ বন্টন নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। বহু মানুষ অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রকৃত দুর্গতদের কাছে সব সামগ্রী পৌঁছায়নি। তবে এত বিপুল পরিমাণ ত্রিপল একসঙ্গে উদ্ধার হওয়ার পর সেই অভিযোগ নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ত্রিপলগুলি সরকারি স্টকের অংশ কি না এবং কীভাবে সেগুলি ব্যক্তিগত জায়গায় মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
যদিও তরুণ কুমার মাইতির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ত্রাণ সামগ্রী বন্টন নিয়ে দুর্নীতি চলছে এবং এই ঘটনা তারই বড় প্রমাণ। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এই অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে একের পর এক ত্রাণ দুর্নীতি, কাটমানি এবং সরকারি সামগ্রী মজুতের অভিযোগ সামনে আসছে, তা শাসকদলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।
এগরার এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, উদ্ধার হওয়া সরকারি ত্রিপলগুলি কার নির্দেশে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছিল কি না। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনিক রেকর্ড খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। পাশাপাশি ওই ত্রিপল কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কাদের মধ্যে তা বন্টনের কথা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোটা ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শুধু ত্রিপল নয়, সরকারি প্রকল্পের আরও নানা সামগ্রী নিয়েও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।



















