বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্করকে জেরা করে পাটক্ষেতে মিলল ১০ কোটি

কলকাতা: আগেই তার বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৮০ লক্ষ টাকা। (Dipankar Bhattacharya)এবার পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে গিয়ে পাটক্ষেতে টাকা রাখার স্বীকারোক্তি করলেন বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সূত্রের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
dipankar-bhattacharya-cash-recovery-baduria

কলকাতা: আগেই তার বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৮০ লক্ষ টাকা। (Dipankar Bhattacharya)এবার পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে গিয়ে পাটক্ষেতে টাকা রাখার স্বীকারোক্তি করলেন বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে ৫টি ট্রলি ভর্তি টাকা পাওয়া গিয়েছে ওই পাটক্ষেত থেকে। ইতিমধ্যেই তাঁর একাধিক ঘনিষ্ঠ জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ অর্থ, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এবং হাজার হাজার ত্রিপল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে প্রায় ১০ কোটি টাকা রয়েছে সবকটি ব্যাগে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বাড়ি সংলগ্ন একটি বন্ধ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। অভিযোগ, বহুদিন ধরেই ওই কেন্দ্রটি কার্যত গোপন ডেরা হিসেবে ব্যবহার করতেন চেয়ারম্যান। সোমবার গভীর রাতে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই স্তূপ করে রাখা নগদ টাকার বান্ডিল দেখতে পান তদন্তকারীরা। টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে তা গুনতে তিনটি মেশিন আনতে হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭৯.৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, এটিই ছিল কেবল শুরু।

   

আরও দেখুনঃATS-কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান! গুজরাট উপকূলে উদ্ধার কোটি টাকার ব্রাজিলের কোকেন

পুলিশি জেরার মুখে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, জেরার সময় তিনি স্বীকার করেন যে আরও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা একটি পাটক্ষেতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এরপরই পুলিশ তাঁকে নিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় যায় এবং সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চারটি ট্রলি ভর্তি টাকা উদ্ধার করে। যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মোট টাকার সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

শুধু নগদ টাকাই নয়, তল্লাশিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা তাঁর পার্টি অফিস, বাগানবাড়ি এবং ওই কম্পিউটার সেন্টার থেকে প্রায় ৪,০০০ সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করেন। অভিযোগ, এই ত্রিপলগুলি দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ছিল। পাশাপাশি অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রীও মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, বহুদিন ধরেই এলাকায় আবাসন যোজনা এবং সরকারি ত্রাণ বন্টনে কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে টাকা দিতে হত। যদিও এতদিন কোনও বড় পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় রবিবার রাতে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পোড়ানো হচ্ছিল এবং ত্রাণ সামগ্রী অন্যত্র সরানোর চেষ্টা চলছিল। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ এলাকায় পৌঁছে নজরদারি শুরু করে। এরপর প্রায় একদিন আত্মগোপন করে ছিলেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকেই শুরু হয় দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ। সেই জেরাতেই সামনে আসে পাটক্ষেতে টাকা লুকিয়ে রাখার তথ্য।

তদন্তকারীদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের কোনও বৈধ ব্যাখ্যা এখনও দিতে পারেননি চেয়ারম্যান। ফলে এই টাকা সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি, কাটমানি কিংবা অন্য কোনও বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় স্তরে দুর্নীতি চললেও প্রশাসন নীরব ছিল। যদিও শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই বিপুল টাকার উৎস কোথায় এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ সামগ্রী কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে মজুত করা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় আগামী দিনে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।

 

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google