শুভেন্দুর ‘পুশব্যাক’ হুঙ্কার! হাকিমপুর সীমান্ত নিয়ে মুখ খুলল বাংলাদেশ দূতাবাস

কলকাতা: দেশজুড়ে বদলে যাওয়া জনসংখ্যা বিন্যাস বা ‘ডেমোগ্রাফি’ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লা থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া রেকর্ড মাত্রায় ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Hakimpur border verification of Bangladeshi infiltrators

কলকাতা: দেশজুড়ে বদলে যাওয়া জনসংখ্যা বিন্যাস বা ‘ডেমোগ্রাফি’ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লা থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া রেকর্ড মাত্রায় জোরদার করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এমতাবস্থায় উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর সেখানে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেছেন বহু অবৈধ নাগরিক। আর এই বর্ডার অ্যাকশনের মাঝেই এবার ভেরিফিকেশন বা পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ খুলল কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ ডেপুটি হাইকমিশন। (Hakimpur border verification of Bangladeshi infiltrators)

জনগণের টাকায় ভরণপোষণ নয়, হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

হাকিমপুর সীমান্তে অবৈধ বাংলাদেশিদের ভিড় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ বলেছেন, সীমান্তে জড়ো হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ওপারে ফেরত পাঠানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। পূর্বতন সরকারকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতদিন শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের নোংরা রাজনীতির কারণে আইন থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু এখন আর রাজনীতি নয়, দেশের আইন কার্যকর করার সময় এসেছে। এ দেশের সাধারণ করদাতাদের টাকায় কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর ভরণপোষণ করা বরদাস্ত করা হবে না।”

   

চিহ্নিতকরণে আপত্তি নেই, তবে নথির অভাব: দাবি দূতাবাসের

শুভেন্দু সরকারের এই ‘ডিটেক্ট ও ডিপোর্ট’ নীতির সমান্তরালেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সচল রাখতে দিল্লির সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ প্রশাসন। এই মেগা পুশব্যাক ড্রাইভ নিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ ডেপুটি হাইকমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে জানান, আইনগতভাবে পরিচয় যাচাই বা প্রপার ভেরিফিকেশন ছাড়া কাউকে বর্ডার পার করানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “সীমান্তে যাঁদের আটক করা হচ্ছে, তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করে নাগরিকত্ব ভেরিফিকেশনের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তাঁরা সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধভাবে এ দেশে ছিলেন, তবে তাঁদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে ঢাকার কোনও আপত্তি নেই। এটা একটা রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।”

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, “মাঝেমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের কাছেই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক প্রমাণের মতো উপযুক্ত কাগজপত্র বা বৈধ নথি থাকে না। তখন আমাদের পক্ষেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও আমরা সবসময় চেষ্টা করছি যাতে আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জট কাটানো যায়। দিল্লি থেকে আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে কোনও প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক অহেতুক হেনস্থার শিকার না হন।”

সব মিলিয়ে, একদিকে শুভেন্দু সরকারের জিরো-টলারেন্স নীতি এবং অন্যদিকে ওপার বাংলার আইনি কাগজপত্রের কড়াকড়ি, ছাব্বিশের এই হাকিমপুর সীমান্ত সমস্যা এখন দিল্লির সাউথ ব্লকের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google