কলকাতা: অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। (Dilip Mondal)দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছিলেন বেপাত্তা। একের পর এক অভিযোগ ওঠার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছিল তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অবশেষে ওডিশার পুরী থেকে তাঁকে আটক করল বেঙ্গল STF। বুধবার তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিলীপ মণ্ডলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল তদন্তকারীরা। অভিযোগ, এক রাজনৈতিক সভা থেকে বিজেপি কর্মী এবং পুলিশকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর থেকেই কার্যত গা ঢাকা দেন তৃণমূলের এই বিধায়ক।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহের মধ্যেই দিলীপ মণ্ডল কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, মামলার দ্রুত শুনানি করা হোক এবং তাঁকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হোক। যদিও আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয়। তারপর থেকেই কার্যত আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
আরও দেখুনঃ অভিষেকের ডায়মন্ড হারবারে দাগি তৃণমূল নেতা বাপ্পা শেখকে পুলিশ প্যারেড
এদিকে, তাঁর ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডল বেআইনি অস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দিলীপের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। গত ১৮ মে গ্রেপ্তার হয় অর্ঘ্য। এরপর থেকেই দিলীপ মণ্ডলকে ধরতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। অবশেষে ৯ দিনের মাথায় পুরীর একটি গোপন ডেরা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
তবে দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তাঁর পৈলানের বাগানবাড়ি ঘিরে। ২০২৬ সালের ১৪ মে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ ও RAF তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং বিরোধীদের হুমকি দেওয়ার মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। আর সেই তল্লাশিতেই সামনে আসে একের পর এক চমকে দেওয়া তথ্য।
সংবাদমাধ্যম এবং পুলিশের ক্যামেরায় ধরা পড়ে দিলীপ মণ্ডলের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ছবি। বিশাল লোহার গেট দিয়ে ঘেরা রিসর্ট-সদৃশ ওই প্রাসাদোপম বাড়িতে ছিল বড়সড় সুইমিং পুল, শৌখিন বাঁশের তৈরি পুলসাইড বসার জায়গা, দোলনা, আলাদা গ্লাস-রুম এবং একাধিক দামি গাড়ি। স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেছেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ।
তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে বাড়ির ভেতরে থাকা একটি গোপন ভূগর্ভস্থ আস্তানা। সূত্রের খবর, বাড়ির নির্দিষ্ট অংশের নীচে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ আন্ডারগ্রাউন্ড চেম্বার, যা বাইরে থেকে সহজে বোঝার উপায় ছিল না। পুলিশের অনুমান, প্রয়োজনে আত্মগোপন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্যই এই গোপন ঘাঁটি ব্যবহার করা হত।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে চলছিলেন দিলীপ মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বর্তমানে দিলীপ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে STF এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনও অভিযোগ সামনে আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেপ্তার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াতে চলেছে।


















