
কলকাতা: জোড়াফুল শিবিরে ভাঙনের সুর এবার আরও চওড়া। কল্যাণীতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতির রেশ কাটার আগেই মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের অন্দরে কার্যত পারমাণবিক বোমা ফাটালেন রাজ্যসভা সাংসদ তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। সামাজিক মাধ্যমে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাস টেনে তিনি সরাসরি লিখেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।” (Sukhendu Sekhar Ray comments on TMC defeat)
ঘনিষ্ঠমহলে দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিস্ফোরক সব দাবি করেছেন ছয় দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। সুখেন্দুবাবুর স্পষ্ট কথা, ২০১১ সালে মানুষ যেভাবে সিপিএমকে সরাতে ভোট দিয়েছিল, ২০২৬-এও ঠিক একইভাবে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মানুষ বিজেপি-কে বেছে নিয়েছে।
তৃণমূলের বিপর্যয় নিয়ে মূলত তিনটি জলজ্যান্ত সত্য তুলে ধরেছেন তিনি
সুখেন্দুবাবুর মতে, ২০২৪ সালের আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ মানুষের রাজপথে নেমে আসাই ছিল প্রথম অশনিসংকেত, যা পড়তে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল দল। তাঁর দাবি, দুর্নীতি তৃণমূলে গ্রাস করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো গ্রামে সবচেয়ে বড় বাড়িটাই এখন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের। মানুষ এই দৃশ্য খালি চোখে দেখে বিকল্প খুঁজে নিয়েছে। লোকসভায় ২৯টি আসন পাওয়ার মাত্র দু’বছরের মধ্যে কীভাবে এই ধস নামল, তা নিয়ে দলীয় শুদ্ধকরণের দাবি তুলেছেন তিনি।
কাকলিকে পদ থেকে সরানোর পর যেভাবে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, সেই আবহে সুখেন্দুর এই মন্তব্য ঘাসফুল শিবিরকে চরম ব্যাকফুটে ফেলে দিল।













