
কলকাতা: সম্প্রতি তৃণমূল আশ্রিত দাগি অপরাধীদের গ্রেফতার করে অন্তর্বাসে প্যারেড করাচ্ছে রাজ্যের পুলিশ (Kalyan Banerjee)। এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। কল্যাণ তার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেছেন দুষ্কৃতীদের সম্মান দিতে হবে এবং এই ভাবে রাস্তায় ঘোরানো মানবাধিকারের পরিপন্থী।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লেখেন, সরকার যদি অতিরিক্ত ক্ষমতা পুলিশ প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়, তাহলে অনেক সময় সেই ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়। তখন ন্যায়বিচারের জায়গায় বর্বর মানসিকতা জায়গা করে নেয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনও অপরাধীকেই তিনি সমর্থন করছেন না কিংবা অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। কিন্তু একজন অভিযুক্ত বা দাগি অপরাধীকেও রাস্তায় দড়ি বেঁধে বা অন্তর্বাস পরিয়ে জনসমক্ষে ঘোরানো মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং আইনের চোখেও গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও দেখুনঃ মোহনবাগান ছাড়লেন কুণাল! হোয়াটসঅ্যাপে ইস্তফা পাঠিয়ে ‘X’ হ্যান্ডেলে আবেগঘন পোস্ট
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্তদের অন্তর্বাসে প্রকাশ্যে হাঁটানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই জনতার সামনে এই ধরনের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পুলিশের একাংশের দাবি, অপরাধ দমনে কড়া বার্তা দিতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকার কর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আদালতে দোষ প্রমাণ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তিকে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিরোধী।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আরও বলেন, “কোনও সরকার যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ না করে সার্কাস দলের মতো আচরণ শুরু করে, তাহলে সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।” তাঁর মতে, আইন নিজের পথে চলবে, আদালত বিচার করবে, কিন্তু প্রশাসন যদি জনতার বিনোদনের উপকরণ তৈরি করতে শুরু করে, তাহলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও তা সমর্থন করছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের মধ্যেই এই ইস্যুতে মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। কারণ একদিকে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপকে সমর্থন করা হচ্ছে, অন্যদিকে দলেরই এক সাংসদ প্রকাশ্যে মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদার প্রশ্ন তুলেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার অধিকার রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে। তাই তদন্ত চলাকালীন কোনও ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপমান করা হলে তা ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যু নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ পুলিশের কঠোরতাকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ বলছেন এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।













