Home Bharat ভয়াবহ জয়সলমীর! খোদ সরকারি এলাকায় পচছে ৫০০ গোমাতার দেহ

ভয়াবহ জয়সলমীর! খোদ সরকারি এলাকায় পচছে ৫০০ গোমাতার দেহ

jaisalmer-cow-carcass-incident-municipal-yard

জয়সলমীর: রাজস্থানের জয়সলমীরে এক ভয়াবহ ও বীভৎস দৃশ্য সামনে এসেছে। (Jaisalmer)শহরের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে পাঁচশোরও বেশি গরুর পচা মৃতদেহ। ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দিনের পর দিন এই দেহাবশেষগুলো খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। বাতাসে মিশে যাচ্ছে রোগ-জীবাণুর ঝুঁকি। স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সঞ্চার হয়েছে।

- Advertisement -

   

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো জয়সলমীর শহরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই ইয়ার্ডের কাছাকাছি এলাকায় অসহ্য দুর্গন্ধে নাকাল হয়ে পড়েছিলেন তারা। অনেকে জানালেন, সকাল-সন্ধ্যায় বাইরে বেরোলেই চোখ জ্বালা করছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সূত্র জানিয়েছে, মৃত গরুগুলোর দেহ সঠিকভাবে সমাধিস্থ বা প্রক্রিয়াজাত করার দায়িত্ব ছিল একটি ঠিকাদার সংস্থার ওপর। কিন্তু ঠিকাদার সেই দায়িত্ব পালন করেনি।

আরও দেখুনঃ মনোজ আগরওয়ালের জায়গায় নতুন সিইও নীলম মিনা

চুক্তি অনুযায়ী গরুর মৃতদেহগুলোকে নিয়ম অনুসারে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলা বা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করার কথা ছিল। কিন্তু চরম অবহেলায় সেগুলো খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হয়। প্রচণ্ড গরমে দেহাবশেষগুলো দ্রুত পচে যায় এবং পরিবেশ দূষিত হয়।ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জয়সলমীর জেলা কালেক্টর তাৎক্ষণিকভাবে পুরো বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠিয়েছেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষও ঠিকাদারকে নোটিশ জারি করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বর্তমানে ইয়ার্ড থেকে মৃতদেহগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের মাধ্যমে অপসারণ চলছে। তবে দুর্গন্ধ এখনও পুরোপুরি কমেনি। স্থানীয় প্রশাসন মাস্ক ও প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।পশু প্রেমী ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। অনেকে বলছেন, গরু হত্যা ও অবহেলায় মৃতদেহ ফেলে রাখা দুটোই সংবেদনশীল বিষয়। জয়সলমীরের মত ধর্মপ্রাণ এলাকায় এমন ঘটনা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। স্থানীয় গোশালা কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে অসুস্থ ও মৃত গরু আসে। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Follow on Google