Home North East India অসম বিধানসভায় প্রস্তাব বহু বিবাহ বিল! এর পরই বাংলার পালা

অসম বিধানসভায় প্রস্তাব বহু বিবাহ বিল! এর পরই বাংলার পালা

assam-uniform-civil-code-bill-polygamy-ban-live-in-registration

গুয়াহাটি: সোমবার অসম বিধানসভায় এক (Assam)ঐতিহাসিক পদক্ষেপে রাজ্য সরকার ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল উত্থাপন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের ব্যক্তিগত আইনকে এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। বিলটিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বহুবিবাহের (পলিগ্যামি) সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন।

- Advertisement -

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই পদক্ষেপ যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। এই আবহেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। অনেকেই বলছেন অসমের পর এবার এই বিল আনতে চলেছে বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার। নির্বাচনের আগেই প্রচারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক জায়গায় এই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ বিল বা UCC র কথা বলেছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে পরিবপর্তনের ঝড়ে যাচ্ছে রাজ্যের খোল নলচে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাজ্যের সামাজিক মহলেও গুঞ্জন অসমে এই বিল পাস হলেই বাংলার বিধানসভাতেও এই বিল উপস্থাপন করা হবে।

   

আরও দেখুনঃ NEET ২০২৬ কেলেঙ্কারি, সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, কেন বারবার একই ভুল?

অসমের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা সোমবার বিধানসভায় ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, অসম বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটি বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়ে সমান নিয়ম প্রয়োগের কথা বলছে। সরকারের দাবি, এই বিল নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা করবে এবং সমাজে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে।বিলের মূল প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বহুবিবাহের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা।

যদি কোনো ব্যক্তি প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বিবাহের ন্যূনতম বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কন্যাসন্তানদের সম্পত্তির সমান উত্তরাধিকারের অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো লিভ-ইন সম্পর্ক। বিল অনুসারে, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা দম্পতিদের ৬০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে নিবন্ধন করতে হবে।

অনিবন্ধিত লিভ-ইন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিবন্ধন না করলে জরিমানা এমনকি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এই পদক্ষেপ নারীদের আইনি সুরক্ষা দেবে, সম্পত্তি ও সন্তানের অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং শোষণ রোধ করবে।তবে বিলটিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও রয়েছে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মতো অসমেও তফসিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায় এবং ষষ্ঠ তফসিলের এলাকাগুলোকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রীতিনীতির ওপরও এই বিল প্রভাব ফেলবে না বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণকে ইউসিসির প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই বিল নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং সমাজের একাংশে প্রচলিত অসমতা দূর করবে।” সরকারের মতে, বহুবিবাহ অনেক ক্ষেত্রে নারীদের শোষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের জটিলতা তৈরি করে।

Follow on Google