
শ্রীরামপুর: ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’, প্রবাদটি চেনা হলেও, পুলিশের চব্বিশ ঘণ্টার ডিউটির যাঁতাকলে পড়ে স্বাস্থ্যের বারোটা বাজছিল রাজ্যের একটা বড় অংশের পুলিশকর্মীদের। বাড়ছিল ভুঁড়ির বহর, কমছিল ফিটনেস। কিন্তু রাজ্যে জমানা বদলাতেই এবার পুলিশের মেদ ঝরাতে কড়া দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, নিজেকে ফিট রাখতেই হবে, করতে হবে নিয়মিত শরীরচর্চা। আর খোদ ‘বস’-এর এই ফরমানের পরেই সাতসকালে লাঠি-বন্দুক ছেড়ে ট্র্যাকসুটে মাঠ কাঁপাতে নামল পুলিশ। হুগলির চন্দননগর কমিশনারেটের অন্তর্গত থানাগুলিতে এখন তাই রোজ ভোরের চেনা ছবি- মর্নিং ওয়াক, পিটি আর ঘাম ঝরানো কসরত! (West Bengal Police Fitness Drive)
ট্রেনিং দিচ্ছেন জাতীয় অ্যাথলিটরা, মাঠে খোদ ডিসি
পুলিশকর্মীদের এই ‘ফিটনেস মিশন’ সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। শ্রীরামপুর স্টেডিয়ামে পুলিশবাহিনীর কসরত তদারকি করতে হাজির থাকছেন খোদ ডিসি (শ্রীরামপুর) অর্ণব বিশ্বাস। পুলিশকর্মীদের বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ট্রেনিং দিতে নিয়োগ করা হয়েছে পেশাদার ট্রেনার, শ্রীরামপুরের নামী অ্যাথলিট গোপাল রায় ও পূজা সাউকে। রবিবার সকালে সাধারণ মানুষ যখন মাঠে প্রাতঃভ্রমণ করতে এসেছেন, তখন দেখা গেল চেনা পুলিশ বাবুদের কেউ ৮০০ মিটার স্প্রিন্ট টানছেন, কেউ আবার ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করছেন। এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে যান স্থানীয়রা।
৫ কিলোমিটার মর্নিং ওয়াক বাধ্যতামূলক, ফিরল পুরোনো স্মৃতি
কমিশনারেটের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, সমস্ত থানার পুরুষ ও মহিলা উভয় পুলিশকর্মীদের জন্যই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ৫ কিলোমিটার করে মর্নিং ওয়াক বা শরীরচর্চা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কড়া অনুশীলনে নামার পর অনেক প্রবীণ পুলিশকর্মীই তাঁদের চাকরিতে যোগ দেওয়ার দিনগুলির কথা স্মরণ করে নস্টালজিক হয়ে পড়ছেন। রিষড়া থানার ওসি সঞ্জয় সরকার নিজে একজন তুখোড় স্পোর্টসম্যান ও ফুটবলার। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজে যেমন ফিট থাকেন, তেমনই এখন থানার বাকি কর্মীদেরও প্রতিদিন মাঠে এনে উৎসাহিত করছেন।
কাজের চাপ বনাম ফিটনেস: পুলিশ মহলে উঠছে প্রশ্নও
মুখ্যমন্ত্রীর এই ফিটনেস দাওয়াইকে বাহিনীর সিংহভাগ স্বাগত জানালেও, একাংশের মধ্যে মৃদু অসন্তোষও দানা বেঁধেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পুলিশকর্মীর অভিযোগ, “থানায় চব্বিশ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। ঠিকমতো ঘুম হয় না, খাওয়ার সময় থাকে না। এই অবস্থায় ভোরে উঠে দৌড়ানো কতটা সম্ভব?” যদিও কাজের চাপের কথা স্বীকার করে নিয়েও ডিসি অর্ণব বিশ্বাস জানান, “পুলিশের চাকরিতে ফিটনেস সবচেয়ে আগে প্রয়োজন। ব্যস্ততার মধ্যেও যদি ভোরে কিছুটা সময় বের করে শরীরচর্চা করা যায়, তবে শরীর ও মন দুই-ই চনমনে থাকবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে বিগত জমানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পুলিশের ভুঁড়ি নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চে একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখন নির্দেশ কেবল কথাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই যেভাবে খোদ ডিসি, ওসি-রা ভোরবেলা মাঠে নেমে পড়েছেন, তাতে বোঝাই যাচ্ছে, বাংলায় পুলিশের ভুঁড়ি কমানোর মেগা মিশন এবার বেশ সফলভাবেই শুরু হয়ে গিয়েছে!












