
সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। বাইশ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় স্তরের লিগ ঘরে তুলেছে মশাল ব্রিগেড। সেদিন কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে অভিজিৎ মন্ডলদের ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল অস্কার ব্রুজোর ছেলেরা। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে একটি গোলের ব্যবধানে এসেছিল জয়। বিপিন সিংয়ের অনবদ্য ক্রস থেকে গোল করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেছিলেন মহম্মদ রশিদ। তাঁর পায়ের আলতো ছোঁয়ায় ট্রফি নিশ্চিত হয়েছিল লাল-হলুদের।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইস্টবেঙ্গল জনতা। দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পর সুদিন ফিরলে উন্মাদনা বা উত্তেজনা যে চরমে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। যারফলে ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের দখল চলে গিয়েছিল সমর্থকদের হাতে। ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের দরুন স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি গ্যালারিতেই আয়োজন করতে হয়েছিল ট্রফি স্যারেমনি। ফুটবলারদের হাতে আইএসএল ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন কল্যাণ চৌবে। পরেরদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে আয়োজিত হয়েছিল সমগ্ৰ পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান। পরবর্তীতে নিজেদের সোশ্যাল সাইটে সেই সম্পর্কিত পোস্ট করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলারদের।
আরও পড়ুন: লাল-হলুদকে ভারত সেরা করে নেটমাধ্যমে কী লিখলেন রশিদ?
এবার নেটমাধ্যমে আইএসএল ট্রফি ও মেডেল সহ বিভিন্ন মুহুর্তের ছবি আপলোড করে মনের কথা লিখলেন লাল-হলুদের যুব দলের কোচ বিনো জর্জ। তিনি লেখেন, ‘ পরম গর্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! ইস্টবেঙ্গল এফসি-র হয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা নিঃসন্দেহে আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। ভারতীয় ফুটবলে আমার যাত্রাপথের দিকে ফিরে তাকালে, গোকুলাম কেরালা এফসি-র হয়ে আইলিগ এবং ডুরান্ড কাপ জেতা থেকে শুরু করে, ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আরএফডিএল রানার-আপ, কলকাতা ফুটবল লিগ, সুপার কাপ, এবং এখন চূড়ান্ত পুরস্কার আইএসএল ট্রফি জেতা পর্যন্ত দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শিরোপা জিততে পেরে আমি নিজেকে অবিশ্বাস্যভাবে ভাগ্যবান মনে করি।’
আরও উল্লেখ করেন, ‘এই আইএসএল জয়টি গড়ে উঠেছে নিখাদ রক্ত, ঘাম এবং চোখের জলের ওপর। আমাদের ফর্মেশন এবং কৌশল নিয়ে আমরা তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলাম, কিন্তু কোচ অস্কার, টেকনিক্যাল স্টাফ এবং আমি কখনও দমে যাইনি। আমরা প্রতিটি ম্যাচকে একটি স্বতন্ত্র কৌশলগত লড়াই হিসেবে বিবেচনা করেছি। খেলোয়াড় নির্বাচন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুশীলন থেকে শুরু করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বদলি খেলোয়াড় নামানো পর্যন্ত আমাদের পথের সমস্ত বাধা অতিক্রম করার জন্য প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিখুঁত নির্ভুলতার সাথে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই সিজনটি আমাদের সহনশীলতার এমন এক পরীক্ষা নিয়েছে যা আগে কখনও হয়নি। নানা প্রতিকূলতার কারণে আমাদের খেলোয়াড়দের কার্যত চারটি ক্লান্তিকর প্রাক-মরসুম সহ্য করতে হয়েছে। আমরা ডুরান্ড কাপ, আইএফএ শিল্ড এবং সুপার কাপে হৃদয়বিদারক হতাশার সম্মুখীন হয়েছি।
তবুও, এমন একটি লিগে যেখানে শীর্ষ চারটি দলের যেকোনোটিই শিরোপা জিততে পারত, আমাদের ছেলেরা সেই প্রচণ্ড মানসিক চাপকে আত্মস্থ করে, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে গিয়ে এই সুন্দর ট্রফিটি জিতে নিয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার পর এই ট্রফিটি আপনাদের কাছে ফিরিয়ে আনা এমন এক সম্মান যা ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট, আমাদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা এবং সর্বোপরি, আমাদের সমর্থকদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ, যারা আমাদের ভালো-মন্দ সব সময়ে পাশে ছিলেন। এই ঐতিহাসিক অর্জন আমাদের সকলের, এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এই মুহূর্তটি ইস্টবেঙ্গল এফসি-র ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’













