
কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের গণনায় প্রায় জয়ী বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। (Suvendu Adhikari)এই আবহেই এক্স হ্যান্ডেলে জয়ের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে শুভেন্দু বলেছে এখন আর ডায়মন্ডহারবার মডেল নয় এখন ফলতা পরিণত হয়েছে তৃণমূলের হারবার মডেলে। তবে এই প্রথম নয় এর আগেও একাধিকবার শুভেন্দু অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এবং জাহাঙ্গীর খানকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে উৎখাত করার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।
বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদল হলেও ফলতার নির্বাচন সেই সময় স্বচ্ছ হয়নি। তাই গত ২১ মে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের আগেই বড় চমক দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। আজ ২৪ মে গণনার পরেই বড় লিড নেয় বিজেপি এবং তৃণমূল চলে যায় একদম শেষে ৪ নম্বর স্থানে।
আরও দেখুনঃ তৃণমূল জমানার একদশকের অভিশাপ কাটিয়ে শুরু হচ্ছে ভ্যাকেন্সি অডিট
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের নিশানায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সংগঠন পরিচালনা। তিনি অভিযোগ করেন, একটি “নীতি-আদর্শহীন দল” ধীরে ধীরে “মাফিয়া কোম্পানিতে” পরিণত হয়েছিল। তাঁর দাবি, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং ভয় দেখানোর রাজনীতি করে সাধারণ মানুষের উপর দীর্ঘদিন আধিপত্য বজায় রেখেছিল শাসকদল।
এছাড়াও তিনি নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধেও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান। শুভেন্দুর বক্তব্য, “প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি হওয়া” এক নেতা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অপরাধের সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, আগের নির্বাচনে ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে তৃণমূল অস্বাভাবিক লিড নিয়েছিল, কিন্তু এবার মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে বাস্তব চিত্র সামনে এনে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আগের ভোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন গত ২১ মে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। ভোটের আগেই বড় চমক দিয়ে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে।
শনিবার গণনা শুরু হতেই বিজেপি দ্রুত বড় লিড নিতে থাকে। অন্যদিকে তৃণমূল ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থানে নেমে যায় বলে বিজেপির দাবি। যদিও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল ও সরকারি ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখনও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, এটি কেবল শুরু। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও বড় রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর কটাক্ষ, ভবিষ্যতে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে “নোটা”। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নোটার কাছেও পরাজিত হয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ফলতার ফলাফল ঘিরে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিজেপি এই ফলকে রাজ্যের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।













