
নয়াদিল্লি: ৪ দিনের ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্ক রুবিও। (Venezuela)এই আবহেই ফিরল ভারতের জ্বালানি ভাগ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে ভারত এক নতুন তেল আমদানির পথ খুঁজে পেয়েছে। এবার ভেনেজুয়েলার তেল ভারতের জ্বালানি ঝুড়িতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিচ্ছে। ভেনেজুয়েলার ক্রুড অয়েল এখন রাশিয়ান তেলের চেয়েও সস্তা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানির উৎস এবং ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ৫ থেকে ৮ ডলার কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল আমদানি শুরু করতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের গুণমান ভাল হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় দেশীয় রিফাইনারিগুলো এই তেলের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যেখানে তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেখানে এই নতুন উৎস ভারতের জন্য স্বস্তির খবর।ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে।
আরও দেখুনঃ গড়িয়াহাট থানায় ঘন্টাখানেক জেরার মুখে ‘রগড়ানি দিবসের’ সমর্থক স্বস্তিকা
এর মধ্যে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি বেড়ে ভারতের মোট আমদানির তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বর্তমানে ব্রেন্ট বেঞ্চমার্কের চেয়ে ৫-৮ ডলার সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে, যা রাশিয়ান ক্রুডের চেয়েও লাভজনক। এই সস্তা তেল আমদানির ফলে দেশের তেল শোধনাগারগুলো খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলছেন, রাশিয়া এখনও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ভারতের বেশিরভাগ রিফাইনারি রাশিয়ান তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। রাশিয়ান ক্রুডের সঙ্গে মানিয়ে চলার কারণে এখনও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী রয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলার তেল নতুন বিকল্প হলেও, এটি রাশিয়াকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত বৈচিত্র্যকরণের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
এক দেশের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা ও অন্যান্য দেশ থেকে তেল আনার চেষ্টা চলছে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও সফল হয়েছে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই নতুন রুট ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সাহায্য করবে। বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ কমতে পারে যদি সস্তা তেলের আমদানি অব্যাহত থাকে। তবে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তাই ভারত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।







