Saturday, May 23, 2026
Home Bharat লাদাখে ভেঙে পড়ল সেনার ‘চিতা’! চূর্ণবিচূর্ণ কপ্টার

লাদাখে ভেঙে পড়ল সেনার ‘চিতা’! চূর্ণবিচূর্ণ কপ্টার

নয়াদিল্লি: লেহ-লাদাখের বরফাবৃত দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। তবে অল্পের জন্য এড়ানো গিয়েছে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, লাদাখের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘টাংস্টে’-র কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ‘চিতা’ হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছে। গত বুধবার এই দুর্ঘটনাটি ঘটলেও, কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখার পর শনিবারই প্রথম এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। কপ্টারটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন কপ্টারে থাকা সেনাবাহিনীর ৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। (Indian Army Cheetah Helicopter Crash)

- Advertisement -

দুর্গম পাহাড়ে সাক্ষাৎ যমরাজকে ফাঁকি!

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট ওই চিতা হেলিকপ্টারটি ওড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং একজন মেজর। চালকদের ঠিক পেছনেই যাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনার ‘৩ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন’-এর একজন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (GOC)। যে দুর্গম ও প্রতিকূল পাহাড়ি এলাকায় কপ্টারটি আছড়ে পড়েছে, সেখান থেকে ৩ জন আধিকারিকেরই জীবিত ফিরে আসা অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম কিছু নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দুর্ঘটনায় কপ্টারটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তিন সেনা কর্তাই নিরাপদে আছেন। তবে তাঁদের শরীরে সামান্য চোট লেগেছে। ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা জানতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে সেনা।

   

বাতিল হচ্ছে চিতা-চেতক, ১০ বছরে ২৫০টি নতুন কপ্টার আনছে সেনা

এই দুর্ঘটনার রেশ ধরেই সামনে এসেছে ভারতীয় সেনার এক মস্ত বড় আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা। আর্মি অ্যাভিয়েশন কোরের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ১৯৬০-৭০-এর দশক থেকে চেতক এবং চিতা হেলিকপ্টারগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি, দুর্যোগ মোকাবিলা বা যুদ্ধক্ষেত্র, জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ বা লাদাখ, সর্বত্রই এই দুই কপ্টার ছিল সেনার প্রধান ভরসা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দুই মডেলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন না হওয়ায়, এবার এদের অবসর দিতে চেয়ে সরকারের কাছে দরবার করেছে সেনা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে নানা ট্রায়াল বা পরীক্ষার মাধ্যমে এই পুরোনো কপ্টারগুলি স্ক্র্যাপ করে বা বাতিল করে দেওয়া হবে। তার বদলে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ‘হালকা ইউটিলিটি হেলিকপ্টার’ (LUH)। আগামী ৮ থেকে ১০ বছর ধরে ধাপে ধাপে এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া চলবে। এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রায় ২৫০টি নতুন কপ্টারের প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড’ (HAL) লাইসেন্সের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য মোট ৬২৫টি চিতা ও চেতক হেলিকপ্টার তৈরি করেছিল। বর্তমানে তারা এই কপ্টারগুলির উৎপাদন বন্ধ করে দিলেও, এগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লাদাখের এই দুর্ঘটনা সেনার আকাশপথের আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

Follow on Google