
আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে যাতায়াত বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পরিবহন দপ্তরের তরফে ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে (Free Bus serviece for woman in bengal) প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন রুটে সরকারি বাস আরও বেশি সংখ্যায় নামানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। (Free Bus serviece for woman in bengal) তবে বাস্তব পরিস্থিতি ও পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে প্রশাসনিক মহলে।
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের(Free Bus serviece for woman in bengal) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ময়দান এলাকায় অবস্থিত পরিবহন নিগমের তাঁবুতে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সহ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এছাড়াও সরকারি বাস পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরাও বৈঠকে অংশ নেন। মূল আলোচনার বিষয় ছিল কীভাবে নতুন করে সরকারি বাস পরিষেবাকে আরও কার্যকর করা যায় এবং মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাসের সংখ্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যা। বিগত কয়েক বছরে একাধিক বাস অচল হয়ে পড়েছে, অনেক বাস নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিষেবা থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে পর্যাপ্ত বাসের জোগান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন পরিবহন দপ্তরের একাংশ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র(Free Bus serviece for woman in bengal) পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মহিলারাই এই বিনামূল্যে বাস পরিষেবার সুবিধা পাবেন বলে প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে। তবে এই শর্ত বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বিশেষ করে বাস কন্ডাক্টর কীভাবে নিশ্চিত করবেন যে যাত্রী সত্যিই রাজ্যের বাসিন্দা, সেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা চলছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত ১১ ধরনের পরিচয়পত্রের মধ্যে যেকোনো একটি সঙ্গে রাখতে হবে। যেমন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্র। বাসে ওঠার সময় কন্ডাক্টরকে সেই পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। কন্ডাক্টর তা যাচাই করে তবেই বিনামূল্যে যাত্রার অনুমোদন দেবেন।
এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি বিনামূল্যের যাত্রার জন্য কন্ডাক্টর একটি কুপন ইস্যু করবেন টিকিট পাঞ্চিং মেশিনের মাধ্যমে। এই কুপনগুলির ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার পরবর্তীতে পরিবহন নিগমকে ভর্তুকির টাকা প্রদান করবে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, মাস শেষে যত সংখ্যক ফ্রি টিকিট বা কুপন ইস্যু হবে, তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার গড় হিসেব করে অর্থ পরিশোধ করবে পরিবহন দপ্তরকে।
তবে এই পুরো ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ যাত্রীরা ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভিড় বাসে পরিচয়পত্র যাচাই করা কন্ডাক্টরের জন্য বাস্তবে খুবই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে সময়ক্ষেপণ এবং যাত্রী পরিষেবায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
পরিবহন দপ্তরের একাংশ অবশ্য মনে করছে, ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থাকে আরও সরল করা হবে। শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট রুটে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই পরিষেবা চালু করা হতে পারে। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুরো রাজ্যে তা কার্যকর করা হবে।







