
পঞ্জাবের পাঠানকোটে সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Pathankot)। জাতীয় সড়ক ৪৪-এর ধারে সংবেদনশীল এলাকায় ইন্টারনেট-ভিত্তিক ক্যামেরা বসিয়ে সেনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ থাকতে পারে এবং এই কাজের জন্য অর্থও পেয়েছিল তারা।
পাঠানকোটের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) দলজিন্দর সিং ধিলোঁ জানিয়েছেন, ধাড়িওয়াল চক গ্রামের বাসিন্দা বলজিৎ সিং নামে এক যুবককে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বলজিৎ সিং তার আরও তিন বন্ধুকে নিয়ে জম্মুর দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নজরদারি শুরু করে পুলিশ।
আরও দেখুনঃ থার্মাল ক্যামেরা-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় এ বছরেই স্মার্ট হচ্ছে ভারতের সীমান্ত! স্পষ্ট করলেন শাহ
তদন্তে জানা যায়, সুজনপুর এলাকার কাছে জাতীয় সড়কের ধারে কয়েকটি বিশেষ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এই এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে পরিচিত, কারণ সেনাবাহিনীর যাতায়াত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। পুলিশের অভিযোগ, ওই ক্যামেরাগুলি এমনভাবে বসানো হয়েছিল যাতে এলাকার প্রতিটি নড়াচড়া ও যানবাহনের গতিবিধি নজরে রাখা যায়।
গ্রেফতারের পর বলজিৎ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ক্যামেরাগুলির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় স্ট্যান্ডঅ্যালোন ইন্টারনেট-ভিত্তিক নজরদারি ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলি দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে সক্ষম বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
এসএসপি ধিলোঁ জানিয়েছেন, বলজিৎ সিংয়ের আরও তিন সহযোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন গোটা পরিকল্পনার জন্য লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছিল। বাকি দু’জনের বিদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই কাজের জন্য অর্থ লেনদেনও হয়েছিল।
অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় জেলে রয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদেরও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং এর পেছনে বড় কোনও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ক্যামেরাগুলির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হচ্ছিল এবং বিদেশি কোনও সার্ভারে তা আপলোড করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাঠানকোট বরাবরই নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সেনা চলাচল অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। অতীতে একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। ফলে এই ধরনের নজরদারি যন্ত্র উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।







