
কল্যাণী: রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার ক্ষমতার রাশ হাতে নেওয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়াল নতুন শাসক দল বিজেপি। একটি পার্কের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নদীয়ার কল্যাণীর গয়েশপুর অঞ্চলে দুপক্ষের মধ্যে বেঁধে যায় তুমুল সংঘর্ষ। দুপক্ষের এই মারামারির জেরে রক্ত ঝরেছে বেশ কয়েকজনের। আহতদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কল্যাণী জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও এলাকা থমথমে, মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। (BJP factional clash in Kalyani)
মধ্যরাতে হঠাৎই তুলকালাম, চলল লাঠি-রড
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গয়েশপুরের একটি পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে হঠাৎই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পার্কের দখল কার হাতে থাকবে, এই নিয়ে বিজেপি-র দুটি পক্ষ বচসায় জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেই বচসা রূপ নেয় খণ্ডযুদ্ধে। দুপক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে মাঝরাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণী থানার পুলিশ বাহিনী। তারা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
‘নতুন বিজেপি বনাম পুরনো বিজেপি’র সংঘাত, দাবি স্থানীয়দের
এই চরম অশান্তির নেপথ্যে উঠে এসেছে চরম রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমীকরণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে জমানা বদলের পর গয়েশপুরে ‘নতুন বিজেপি’ (যাঁরা অন্য দল থেকে এসেছেন) এবং ‘পুরনো বিজেপি’ (আদি কর্মী)-দের মধ্যে ক্ষমতার দখলদারি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই অলিখিত ঠান্ডা লড়াই চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতের পার্ক দখলের ঘটনা সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতার অলিন্দে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
আতঙ্কে গয়েশপুর, এলাকায় পুলিশি টহল
শুক্রবার সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা গেল এক থমথমে পরিবেশ। আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পার্কের দখল ঘিরে যে এভাবে নিজেদের মধ্যে তরোয়াল খেলা হবে, তা ভাবতেই পারছেন না প্রতিবেশীরা। নতুন করে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য গয়েশপুরের ওই বিতর্কিত পার্ক ও তার আশপাশের এলাকায় এখনও কড়া পুলিশি পাহারা বসানো রয়েছে। চলছে পুলিশি টহল। দলের এই প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অস্বস্তি এখন চরম তুঙ্গে।













