কলকাতা: মালদা জেলার মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Mothabari)অভিযানকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় নতুন মোড়। এই মামলায় অভিযুক্ত ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিচারকদের আটকে রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তিনি অন্যতম মূল চক্রী ছিলেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন কর্মসূচি বা এসআইআর ড্রাইভ পরিচালনার জন্য একাধিক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একদল উত্তেজিত জনতার মুখোমুখি হন তাঁরা। অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ছাড়াও বিচারকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ বাংলায় তৈরি হবে দ্বিতীয় ‘এইমস’! কল্যাণী থেকে মেগা ঘোষণা শমীক ভট্টাচার্যের
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত মৌলানা শাহজাহান আলী, যিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত, এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) ইতোমধ্যেই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, কেস ডায়েরিতে থাকা ইলেকট্রনিক প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, ফোন রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে অভিযুক্তের ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।
আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে, ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ বিক্ষোভ ছিল না। বরং সরকারি কর্তব্য পালন করতে যাওয়া বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে সংগঠিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল। এই কারণেই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত ধারা ১২১, বিদ্রোহে উস্কানি সংক্রান্ত ধারা ১৩২, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত ধারা ৩৫১(২) এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারা।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তদন্ত এখনও চলমান। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়া এবং বিচারকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে ISF-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নেতাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র প্রমাণের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করছে।


















