‘আবার জিতবে বাংলা’ ধ্বনিতে কেঁপে উঠল ভবানীপুর’, পুলিশকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari-এর সভায় হঠাৎ তৃণমূলের গান বেজে ওঠায় চাঞ্চল্য। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ঘটনায় বাড়ছে বিতর্ক ও চাপানউতোর।

suvendu-adhikari-nomination-nandigram-reyapara-temple-2026

নন্দীগ্রামের ভোট পর্ব শেষ হয়ে গেলেও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও কমেনি। (Suvendu in Bhowanipore) শেষ দফার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এখন নজর ভবানীপুরে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিপরীতে এবার প্রার্থী হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Bhowanipore) । ফলে এই কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই কার্যত ব্যক্তিগত লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল সন্ত্রাস রুখতে বড় পদক্ষেপ আগরওয়ালের

শেষ দফার প্রচারকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে(Suvendu in Bhowanipore) জোর কদমে চলছিল নির্বাচনী কর্মসূচি। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পদযাত্রার মাধ্যমে জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। চারপাশে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, স্লোগান, ব্যানার সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। শুভেন্দু হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছিলেন, ভোটের বার্তা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অভিযোগ, প্রচারের মাঝে হঠাৎই মাইকে বেজে ওঠে তৃণমূলের নির্বাচনী গান। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায় এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি শিবিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

নোয়াপাড়ায় ভোট পড়ে গিয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে BLO রা! দাবি অর্জুনের

এরপরই শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu in Bhowanipore) পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কালীঘাট এবং ভবানীপুর থানার পুলিশের উদ্দেশে তিনি তীব্র ভাষায় প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। তিনি বলেন, “এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কথা বলছেন? প্রচারে আপনারা মমতার বাড়ির দিকে যেতে দেননি। আপনি যেমন যেমন বলেছেন আমি মেনে চলেছি। কিন্তু মাইকটা বাজছে কেন? আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।”

দ্বিতীয় দফায় বাগড়া দিতে পারে খোলা সীমান্ত! বনগাঁ থেকে আশঙ্কা আগরওয়ালের

শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একপক্ষীয়ভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রচারে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি প্রার্থী আরও কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “মমতার বাড়ির দিকে প্রচারে যেতে দেয়নি। আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমি ছাড়ব না। কিন্তু গোটা রাস্তায় মাইক। তৃণমূল একটা ইতর…নর্দমার জল। পুলিশ কিছু করেনি। মমতাকে এই ভাবে জেতানো যাবে না। হারাব…হারাব…হারাব…।”

এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে বিজেপি শিবির দাবি করছে, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে এটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং জনসমক্ষে এমন ভাষা ব্যবহার শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করছে। ভবানীপুর কেন্দ্র বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এবার সেই কেন্দ্রেই মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা। ফলে প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি মন্তব্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।