কোথায় গেল ‘রাত্তিরের সাথী’? ১৫ বছরের শাসনে নারী সুরক্ষা অধরাই দাবি বিজেপির

Mamata Banerjee Resignation
Political Temperature Soars As Suvendu’s Brigade Rally Sees Record Crowd

কলকাতা: ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Rattirer Sathi)এক তরুণী ডাক্তারের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। রাজ্যজুড়ে চিকিৎসকদের আন্দোলন, রাস্তায় বিক্ষোভ, নারী সুরক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার দ্রুত কয়েকটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল রাতে কর্মরত নারীদের সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ ‘রাত্তিরের সাথী’।

সঙ্গে ছিল রাতের ডিউটিতে মহিলা ভলান্টিয়ার মোতায়েন, সেফ জোন তৈরি, সিসিটিভি নজরদারি এবং নারীদের রাতের ডিউটি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার নির্দেশ। কিন্তু প্রায় দু’বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়? এই প্রশ্ন এখন তুলছে বিজেপি সহ বিরোধীরা।ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রোগ্রাম ঘোষণা করা হয়। এতে রাতের শিফটে কর্মরত মহিলা ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য আলাদা রেস্টরুম, ওয়াশরুম, সিসিটিভি কভারেজ এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

   

আরও দেখুনঃ সন্তোষপুর স্টেশনের কাছে বস্তিতে ভয়াবহ আগুন! পুড়ল ওভারহেড তার, বড়সড় রেল বিভ্রাট

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল একটি মোবাইল অ্যাপ, যেখানে বিপদ দেখলেই অ্যালার্ম বাজিয়ে সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং সরকারি মুখপাত্ররা বারবার বলেছিলেন, এই অ্যাপ শীঘ্রই চালু হবে এবং এটি নারীদের রাতের যাতায়াত ও কাজকে নিরাপদ করবে।কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। একটি সাক্ষাৎকারে যখন নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজাকে ‘রাত্তিরের সাথী’ অ্যাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় , তিনি সরাসরি বলে দেন যে, এই বিষয়ে তিনি উত্তর দিতে পারবেন না।

শুধুমাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রীই এর উত্তর দিতে পারবেন। এই ঘটনা সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছিল। দু’বছর কেটে গেলেও সাধারণ নারী কর্মীরা বলছেন, রাস্তায় ‘রাত্তিরের সাথী’ ভলান্টিয়ারদের দেখা মেলে না। হাসপাতাল বা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাতের ডিউটিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনও আতঙ্ক কাটেনি।বিজেপি নেতারা এই বিষয়টিকে তুলে ধরে বলছেন, আরজি কর-এর পর সরকার শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি দিয়ে জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল।

প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নারী সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের দাবি যে ফাঁপা, তা এই অ্যাপের অনুপস্থিতিতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে রাজ্যে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে একটি সাধারণ সুরক্ষা অ্যাপও চালু করতে না পারা কেন?সরকারি তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রোগ্রাম চালু হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসক সমাজের অভিযোগ, এগুলো শুধু কাগজে-কলমে। রাস্তায়, হাসপাতালের করিডরে বা রাতের বাসে নারীরা এখনও একই আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করছেন। একজন কর্মরত নার্স জানান, “অ্যাপের কথা শুনেছিলাম, কিন্তু আজও কোনো লিঙ্ক পাইনি। রাতে ডিউটি করতে গেলে এখনও একা একা ফিরতে হয়।”

এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি বলছে, মমতা সরকার নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বললেও মৌলিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। আরজি কর-এর পর দু’বছর কেটে গেল, কিন্তু ‘রাত্তিরের সাথী’ আজও শুধু নামেই সাথী হয়ে রয়েছে। নারীরা চাইছেন বাস্তব পদক্ষেপ, শুধু ঘোষণাপত্র নয়।