
কলকাতা: বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। (Byron Biswas)এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে দেখা দিল চরম অস্বস্তি। দলের একাধিক শীর্ষ নেতার পর এবার সরাসরি পরাজয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। তাঁর এই মন্তব্য শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, গোটা রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বায়রন বিশ্বাস খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন, সাগরদীঘিতে তিনি হারছেন। শুধু তাই নয়, তিনি আরও কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে বলেন, সেখানেও তৃণমূল প্রার্থীরা হারবেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সামশেরগঞ্জে নূর আলম, জঙ্গিপুরে জাকির হোসেন এবং ফারাক্কায় আমিরুল ইসলামএই সকল নেতারাই হারতে চলেছেন । এই তালিকায় রয়েছেন বর্তমান বিধায়কও, যা স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভোটের তিন দিন আগে ফের ‘অ্যাকশনে’ ইডি! একযোগে ১৭ জায়গায় তল্লাশি
এর আগেই তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল মন্তব্য করেছিলেন যে প্রথম দফার নির্বাচনে দল সর্বোচ্চ ১৫–১৬টি আসন পেতে পারে। যদিও অনুব্রত পরে বলেছেন বিজেপি তার বক্তব্য এডিট করে ভাইরাল করেছে। তাঁর সেই বক্তব্য নিয়েই শুরু হয়েছিল জল্পনা। আর এবার বায়রন বিশ্বাসের সরাসরি হার স্বীকারের মত মন্তব্য সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
বিজেপি নেতৃত্ব তাদের মন্তব্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যন্ত কড়া ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, যার ফলে ভোট পরিচালনায় কোনও প্রভাব খাটানোর সুযোগ ছিল না।
বায়রনের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এতদিন পর্যন্ত বিরোধীরা অভিযোগ করে এসেছে যে রাজ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু এবার শাসক দলেরই এক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা স্বীকার করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তাও প্রকাশ করেছেন। বায়রন বিশ্বাস জানান, “রাজ্যের বাকি জায়গায় কী হবে, তা আমি বলতে পারব না।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, শুধুমাত্র কয়েকটি কেন্দ্র নয়, বরং গোটা নির্বাচনের ফলাফল নিয়েই তৃণমূলের অন্দরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য সাধারণত ভোটগ্রহণের পর খুব একটা শোনা যায় না, বিশেষ করে শাসক দলের প্রার্থীদের মুখে। তাই এই ঘটনাকে অনেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলিও এই সুযোগকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে এবং দাবি করছে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে রাজ্যে।

