
খড়গপুর: বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ চলছে। (Kharagpur)এই আবহেই খড়গপুর সদর কেন্দ্রে রাজনৈতিক চাপান-উতোর তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ সরকার সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রচার শেষ হওয়ার পরেও বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ গতকালও প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিজেপি শিবির নিয়ম মানছে না বলে তিনি দাবি করেছেন।প্রদীপ সরকার বলেন, “প্রচার শেষ হয়ে গেলেও দিলীপ ঘোষ গতকালও প্রচার চালিয়েছেন।
এখানে কোনও ‘বিজেপি-বেল্ট’ বলে কিছু নেই। ২০২২ সালে আমি খুব সামান্য ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলাম। আমরা বিজেপিকে প্রশ্ন করতে চাই, দিলীপ ঘোষ যদি এত ভালো প্রার্থী হন, তাহলে তাঁকে কেন এমপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? বিজেপি কি এর উত্তর দিতে পারবে?”তৃণমূলের এই প্রার্থী আরও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, যেসব জায়গায় বিজেপি কম ভোট পাচ্ছে, সেখানে তারা কোনো অনিয়ম করতে পারে।
আরও দেখুনঃ বিজেপি ৫৫ বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি নন্দীগ্রামে, তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি,পাল্টা জবাব শুভেন্দুর
খড়গপুর সদরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, এই আসনে ফের একটি কঠিন লড়াই হতে চলেছে।খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে দিলীপ ঘোষ এখান থেকে জিতে বিজেপির উত্থানের সূচনা করেছিলেন। পরে ২০১৯-এর উপনির্বাচনে প্রদীপ সরকার তৃণমূলের হয়ে জয়ী হন।
২০২১ সালে বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায় এই আসন দখল করেন, যেখানে প্রদীপ সরকার সামান্য ব্যবধানে হেরে যান। এবার ফের দুই পরিচিত মুখের মুখোমুখি লড়াই। দিলীপ ঘোষ বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর প্রদীপ সরকার তৃণমূলের টিকিটে ফিরে এসেছেন।প্রদীপ সরকার খড়গপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
তিনি নিজেকে ‘মাটির ছেলে’ বলে দাবি করেন এবং বলেন, স্থানীয় উন্নয়ন, পানীয় জল, রাস্তাঘাটের সমস্যা নিয়ে তিনি সবসময় সক্রিয়। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন দলের বড় মুখ ছিলেন। পরে তিনি লোকসভার সাংসদ হন, কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁকে এমপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তৃণমূল এখন হাতিয়ার করছে।

