ভারত আমেরিকার কাছ থেকে আরও ছয়টি বোয়িং পি-৮আই নেপচুন দূরপাল্লার সামুদ্রিক টহল বিমান ক্রয় (P-8I Neptune Aircraft) করতে চলেছে। পাকিস্তান ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। পাকিস্তানি থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলো বলছে, এই পদক্ষেপ ভারত মহাসাগরে ভারতের অব্যাহত সম্প্রসারণ এবং পরিবর্তনশীল নীতিরই প্রতিফলন। ভারত এমন এক সময়ে এই বিমানগুলো সংগ্রহ করছে, যখন সাবমেরিনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সবকিছু মিলে মালাক্কা প্রণালী থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সিআইএসএস উল্লেখ করেছে যে, ভারত প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয় করতে চলেছে। পি-৮আই বিমান কেনার এই সিদ্ধান্ত আরও প্রমাণ করে যে, নয়াদিল্লি এখন সামুদ্রিক পরিমণ্ডলের সচেতনতা, দূরপাল্লার ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধ (এএসডব্লিউ) এবং দিগন্তের ওপার থেকে সামুদ্রিক হামলা চালানোর সক্ষমতাকে তার বিমান বাহিনীর সক্ষমতার সমান গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে।
ভারতের পি-৮আই বিমান চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান কেন ভীত?
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, “পি-৮আই বিমান অধিগ্রহণ নৌবাহিনীর দূরপাল্লার ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধ, সামুদ্রিক নজরদারি এবং সামুদ্রিক হামলা চালানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।” পাকিস্তানের একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লিখেছে যে, “এই বিবৃতিটি ইচ্ছাকৃতভাবে প্ল্যাটফর্মটিকে শুধুমাত্র গোয়েন্দা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং এটিকে ‘গতিশীল প্রতিরোধ’ এবং উত্তেজনা ব্যবস্থাপনার সাথেও যুক্ত করে।”
ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ১২টি পি-৮আই বিমান রয়েছে এবং নতুন এই ক্রয়ের ফলে মোট সংখ্যা বেড়ে ১৮ হবে। সিআইএসএস লিখেছে যে, “ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌশক্তির পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের মধ্যে এই সক্ষমতা একটি প্রধান দেশীয় নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।”
সিআইএসএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পূর্ব উপকূলে আইএনএস রাজালিতে অবস্থিত আইএনএএস ৩১২ “অ্যালবাট্রস” এবং পশ্চিম উপকূলে আইএনএস হংসে অবস্থিত আইএনএএস ৩১৬ “দ্য কন্ডরস”-এর মধ্যে নতুন বিমান মোতায়েন করার মাধ্যমে ভারত আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রবেশকারী সাবমেরিনগুলোকে অবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর অর্থ হলো, ভারত প্রতি সেকেন্ডে জানতে পারবে ভারত মহাসাগর, আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিনগুলো কোথায় সক্রিয় রয়েছে।




















