হলদিয়া: হলদিয়ার নির্বাচনী সভা থেকে ফের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । এদিনের জনসভায় তিনি নাম না করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সভা কার্যত ভোটের আগে রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলে তৃণমূলের কৌশলগত বার্তা স্পষ্ট করে দিল।
সভা মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, ভবিষ্যতে মেদিনীপুরের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে অভিষেকই কাজ করবে।” এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দলীয় সংগঠনে নতুন করে অভিষেকের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মমতার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। কারণ মেদিনীপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এখানে বিরোধী শিবির, বিশেষ করে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত ভবিষ্যৎ কৌশলের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তবে সভার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে মমতার আক্রমণ। নাম না করে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা একসময় দল থেকে সুবিধা নিয়েছেন, তাঁরাই এখন দলবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। হলদিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “হলদিয়া থেকে টাকা কোথায় যায় সব আমি জানি।” এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কিছু নেতা দলের ভিতরে থেকেই বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছেন এবং বাইরের শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্যকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজকে মানুষ কখনও ক্ষমা করবে না এবং সময় এলে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দেবে। এছাড়াও সভা থেকে তিনি ২০২৬ সালের ভোট গণনা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর আশঙ্কা, ভোট গণনার সময় নানাভাবে কারচুপির চেষ্টা হতে পারে, এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ‘লোডশেডিং’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। তিনি দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং গণনার দিন প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।




















