নেপালের কড়া শুল্কে মাথায় হাত বিহারের সীমান্ত ব্যবসায়ীদের !

nepal-customs-duty-impact-bihar-border-trade

পটনা: ভারত-নেপাল সীমান্তের খোলা দরজা যেন এখন বিহারের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। (Nepal customs duty)বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন নির্দেশে ভারতীয় পণ্যের উপর কড়া শুল্ক (ভানসার) আরোপ করা হয়েছে। এখন ₹১০০-এর উপরে যেকোনো কেনাকাটা চা, বিস্কুট, চিনি, ডাল বা সামান্য ঘরোয়া জিনিস সবকিছুর উপরই বাধ্যতামূলক শুল্ক দিতে হচ্ছে নেপালি ক্রেতাদের। ফলে বিহারের প্রায় ৫০টি গ্রামীণ বাজারে ব্যবসা প্রায় থমকে গেছে।

বিবাহের মরশুমেও নেপালি ক্রেতাদের পদচারণা কমে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটছে না।বিহার-নেপাল সীমান্তের ৩৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জোগবানি, অররিয়া, রক্সৌলসহ বিভিন্ন বাজারে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগে নেপালি ক্রেতারা সাইকেল বা পায়ে হেঁটে এসে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিয়ে যেতেন। এখন ₹১০০ ছাড়িয়ে গেলেই ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়।

   

আরও দেখুনঃ আইএসএল স্পনসর ইস্যুতে একজোট ক্লাব মালিকরা, আলোচনার দাবি ফেডারেশনের কাছে

ফলে ছোট কেনাকাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। নেপাল সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য দেশীয় পণ্যকে উৎসাহিত করা এবং রাজস্ব বাড়ানো। কিন্তু এর ফলে সীমান্তের দৈনন্দিন বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সীমান্তেও একই ছবি। নেপালের ভানসার পোস্টগুলোতে কড়া নজরদারি চলছে। এমনকি এনজিও বা সরকারি সংস্থাকেও কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

এই ঘটনা শুধু বাণিজ্যিক ক্ষতির নয়, দীর্ঘদিনের ভারত-নেপাল সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। নেপালকে অনেকেই বলেন ভারতের জন্য ‘মাথাব্যথা’র কারণ। খোলা সীমান্ত দিয়ে জাল নোটের চোরাচালান, অস্ত্র পাচার, মাদকের লেনদেন এসব অপরাধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ভারতীয় জাল নোট (এফআইসিএন) নেপাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। অস্ত্র ও নার্কোটিক্সের চোরাচালানও এই পথেই সহজ হয়।

সীমান্তের খোলা দরজা অপরাধীদের জন্য স্বর্গ হয়ে উঠেছে।বিহারের ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। অনেকে বলছেন, “একতরফা সৌজন্য দেখিয়ে লাভ নেই। নেপাল যখন নিজের স্বার্থ দেখছে, ভারতেরও এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।” সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, কড়া নজরদারি এবং প্রয়োজনে পালটা পদক্ষেপের দাবি উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা সীমান্তের সুবিধা দুই দেশই ভোগ করেছে, কিন্তু অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করতে এবার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।