ভোটার স্লিপ বিলি নিয়ে ব্যারাকপুরে কৌস্তভ বনাম তৃণমূল কোন্দল

ব্যারাকপুরে: ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। (election controversy)ভোটার স্লিপ বিলি থেকে শুরু করে প্রার্থীদের বচসা, নগদ টাকা উদ্ধার, এমনকি হুমকি ও গুরুতর…

west-bengal-election-controversy-voter-slip-cash-seizure-clash

ব্যারাকপুরে: ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। (election controversy)ভোটার স্লিপ বিলি থেকে শুরু করে প্রার্থীদের বচসা, নগদ টাকা উদ্ধার, এমনকি হুমকি ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ সব মিলিয়ে রাজ্যের নির্বাচন পরিস্থিতি এখন বহুমাত্রিক চাপে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার স্লিপ বিলি নিয়ে এবার বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে সরাসরি স্লিপ তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ভোটার বাড়িতে না থাকলে সেই বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। পাশাপাশি, ভোট দেওয়ার সময় ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ভুয়ো ভোট রোখা যায়।

Advertisements

এদিকে, ব্যারাকপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর সঙ্গে এক মহিলা তৃণমূল কর্মীর বচসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে ব্যারাকপুর থানায়। অভিযোগ, ভোটের প্রচারে গিয়ে কাকে ভোট দেওয়া উচিত তা নিয়ে বিতর্কের জেরে ওই মহিলাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৌস্তভ বাগচী।

আরও দেখুনঃ বুথে ‘লক্ষ্মণরেখা’! জাল ভোট রুখতে ডবল চেকিং! কড়া দাওয়াই কমিশনের

অন্যদিকে, নাকা চেকিংয়েও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতার বালিগঞ্জে বিড়লা মন্দিরের কাছে এসএসটি চেকিং চলাকালীন একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। টাকা নিয়ে যাওয়ার বৈধ কারণ দেখাতে না পারায় সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে মোট ২১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।

রাজনৈতিক মঞ্চেও বাড়ছে হুঁশিয়ারির সুর। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পর এবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মুখেও শোনা গেল ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি। খড়গপুরে এক সভায় তিনি বলেন, ভোটের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ধাক্কা। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র সরকার। বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় তা খারিজ হয়ে যায়। এই ইস্যুতে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করেছে, সংবিধানের উপর আঘাত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

এর মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণপুরে এক মহিলাকে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। বালিগঞ্জ জিআরপি-তে জিরো এফআইআর দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।সবশেষে, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূমে পাঁচজন বিএলও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা পক্ষপাতিত্ব করে দেওয়াল লিখন বা রাজনৈতিক প্রচারে যুক্ত ছিলেন। ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।