ওয়াশিংটন: প্রশমিত হওয়া তো দূরস্থান, বরং ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এখন খাদের কিনারায়। আগামী বুধবারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে ইরানের ওপর ফের ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করার সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এই অনড় অবস্থানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা
অ্যারিজোনা সফর শেষে ওয়াশিংটন ফেরার পথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। বর্তমানে জারি থাকা সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানান, “হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমাদের অবরোধ কঠোরভাবে জারি থাকবে। আর দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, আমাদের আবারও বোমা ফেলা শুরু করতে হতে পারে।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক রফাসূত্র না মিললে পেন্টাগন ফের পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের পথেই হাঁটবে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালী US Iran conflict escalation
সম্প্রতি পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো ফলপ্রসূ দিশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরমাণু কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা, উভয় ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরান নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। এই টানাপোড়েনের আঁচ পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’-তেও। তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি, আমেরিকার নৌ-অবরোধ ও চাপ অব্যাহত থাকলে তারা এই কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ খনিজ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
উদ্বেগে বিশ্ববাজার
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহি মনোভাবের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বুধবারের সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি সামরিক সংঘাত শুরু হয়, তবে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধস নামাতে পারে।
এখন গোটা বিশ্বের নজর আগামী বুধবারের দিকে। শেষ পর্যন্ত কি কূটনীতি জয়ী হবে, নাকি বারুদের গন্ধে ভারী হবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ? উত্তর এখন হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।




















