কলকাতা: নির্বাচনী আবহে কলকাতা পুলিশের সতর্কতা ও তৎপরতা ফের একবার সাফল্য পেয়েছে। (Cash Seizure)রাত ৯:৪৫ মিনিটে বালিগঞ্জ থানার এলাকায় বিড়লা মন্দিরের কাছে একটি বিশেষ স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম (এসএসটি) ডিউটি চলাকালীন প্রায় ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। ইস্টার্ন সেক্টরের ২১৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন সিআরপিএফ-এর সদস্যরা এই অভিযানে সহযোগিতা করেন। সিআরপিএফ র এক্স হ্যান্ডেল সূত্রে এই ঘটনাটি সামনে এসেছে।
বালিগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, রাতে নিয়মিত টহল ও চেকিং চলছিল।বিড়লা মন্দিরের কাছে একটি সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহন দেখে টিমটি তাকে থামায়। তল্লাশির সময় ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ব্যাগে লুকিয়ে রাখা নগদ ১২,৫০,০০০ টাকা উদ্ধার হয়। টাকার পরিমাণ ও সময় দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করে যে, এটি নির্বাচনী খরচ বা অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো ব্যক্তি সঠিক নথিপত্র ছাড়া ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ বহন করতে পারেন না।
আধিকারিকরা বলছেন, উদ্ধারকৃত টাকার কোনো বৈধ দলিল বা ব্যাখ্যা সন্দেহজনক ব্যাক্তি দিতে পারেননি।ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পৌঁছান। উদ্ধার হওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত করে বালিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, টাকাটি সম্ভবত কোনো বড় লেনদেন বা নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তবে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ বলছে, টাকার উৎস খুঁজে বের করতে আরও গভীর তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আয়কর বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।কলকাতা পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। এসএসটি টিমগুলো রাত-দিন বিভিন্ন স্পটে মোতায়েন রয়েছে।
বালিগঞ্জের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের তল্লাশি নিয়মিত চলবে। পুলিশের এই তৎপরতায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, নির্বাচনের সময় অবৈধ টাকার লেনদেন রোধ করতে এ ধরনের অভিযান খুবই জরুরি।বিড়লা মন্দির এলাকাটি কলকাতার একটি জনপ্রিয় ও ব্যস্ত স্থান। রাত ৯:৪৫ মিনিটে এমন উদ্ধার অভিযান স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
কেউ কেউ বলছেন, এই টাকা হয়তো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচার বা অন্য কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল। তবে পুলিশ এখনও কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্রের কথা স্পষ্ট করে বলেনি।পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা ব্যাঙ্কে জমা করা হয়েছে এবং মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিআরপিএফ-এর ২১৯ ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে তাঁদের সহযোগিতার জন্য।




















