নয়াদিল্লি: মাত্র ২১ মিনিটের ভাষণ। কিন্তু তাতেই সংসদ কাঁপিয়ে দিলেন ওয়ানাডের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়ড়া। বৃহস্পতিবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা যেভাবে রসিকতার ছলে আক্রমণ শানালেন, তাতে কার্যত মুগ্ধ রাজনৈতিক মহল। কোনও তিক্ততা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়াই তাঁর তীক্ষ্ণ বাণ শাসক শিবিরের ওপর আছড়ে পড়ল একগাল হাসি নিয়ে।
নেহরু বনাম নেহরু
বিজেপি প্রায়শই দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ‘ভুল’ নিয়ে সরব হয়। এদিন প্রিয়াঙ্কা ভাষণ শুরুই করেন নেহরু পরিবারের ইতিহাস টেনে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ৩০ বছর ধরে কারা এই সিদ্ধান্ত আটকে রেখেছিল। আমার শাসক দলের বন্ধুরা হয়তো পছন্দ করবেন না, কিন্তু এর সূচনা করেছিলেন একজন নেহরুই।” এরপরই মোক্ষম হাসিতে তাঁর সংযোজন, “চিন্তা করবেন না, এটি সেই নেহরু (জওহরলাল) নন যাকে আপনারা এড়িয়ে চলেন। আমি ১৯২৮ সালে মতিলাল নেহরুর রিপোর্টের কথা বলছি।” এরপর ১৯৩১-এর করাচি অধিবেশনে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তির ইতিহাস তুলে ধরেন।
শাহ-কে ‘চাণক্য’ খোঁচা ও স্তব্ধ সংসদ Priyanka Gandhi Lok Sabha Speech
ভাষণের সবথেকে চর্চিত মুহূর্তটি ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে উদ্দেশ্য করে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য। অমিত শাহ-কে রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হয়। প্রিয়াঙ্কা সহাস্যে বলেন, “আপনারা সব পরিকল্পনা করেই এসেছেন। আজ যদি আসল চাণক্য বেঁচে থাকতেন, তবে আপনাদের এই ধূর্ততা দেখে তিনিও তাজ্জব বনে যেতেন!” এই মন্তব্যে খোদ অমিত শাহ-কেও অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে দেখা যায়। এমনকি শাহ যখন পাল্টা বলতে ওঠেন, তাঁর সুর ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে সংযত।
রাহুলের পিঠ চাপড়ানি
প্রিয়াঙ্কার এই আত্মবিশ্বাসী ভাষণের পেছনে ছিল নিখুঁত প্রস্তুতি। সূত্রের খবর, পয়েন্ট করে লিখে আনলেও মূলত নিজের সহজাত ভঙ্গিতেই কথা বলেছেন তিনি। তাঁর এই পারফরম্যান্সে খুশি দাদা রাহুল গান্ধীও। ভাষণ শেষে রাহুলকে তাঁর বোনের পিঠ চাপড়ে দিতে দেখা যায়। রাহুল স্পষ্ট জানান, প্রিয়াঙ্কা যেন এই মেজাজেই এগিয়ে চলেন।
ফ্রেমে শুধুই পুরুষ
এদিন একটি বিচিত্র দৃশ্য ধরা পড়ে সংসদ টিভিতে। যখন মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কথা হচ্ছিল, তখন প্রিয়াঙ্কার চারপাশের আসনে কেবল পুরুষ সাংসদদেরই দেখা যাচ্ছিল। কংগ্রেস সূত্রে খবর, প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য রাখার কথা ছিল সকালে, যখন পিছনের সারিতে মহিলা সাংসদরা বসেছিলেন। কিন্তু বক্তা তালিকায় রদবদল হওয়ায় তিনি যখন বলতে ওঠেন, তখন প্রেক্ষাপটে কেবল দীপেন্দর হুডা, শফি পারম্বিলদেরই দেখা যায়। যা নিয়ে মজা করে এক সাংসদ বলেন, “সংরক্ষণের আগেই তো আপনারা আমাদের জায়গা দখল করে নিলেন!”




















