নয়া দিল্লি: অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলায় বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটাধিকার সংক্রান্ত এই মামলায় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই মামলায় রাজ্যের পক্ষ থেকে ভোটাধিকার রক্ষার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির সময় নিজে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি হয় এই সংক্রান্ত বিষয়ে।
মামলার মূল বিষয় ছিল ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর ট্রাইব্যুনালে যেসব আবেদন নিষ্পত্তি হবে, সেই ব্যক্তিদের ভোটাধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একবার ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেলে তাতে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। ফলে ট্রাইব্যুনালে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করে। আদালত জানায়, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভ, তাই শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কোনও যোগ্য নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের মাত্র দুই দিন আগেও যদি ট্রাইব্যুনালে কোনও নামের নিষ্পত্তি হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়সীমার কাছাকাছি হলেও যদি বৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত বা অনুমোদিত হয়, তাহলে সেই ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন নির্ধারিত রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যথাক্রমে ২১ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিল যদি ট্রাইব্যুনালে কোনও নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সেই নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভোটাধিকার দিতে হবে। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টারি রিভাইজড ইলেক্টোরাল রোল প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁদের একটি পৃথক তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করতে হবে, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।




















