ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ! রুশ-ইরানি তেল কেনায় ছাড় বাতিল, চাপ বাড়বে ভারতের?

ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে রুশ ও ইরানি অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় যে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, এবার তা তুলে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
US Russia Iran oil sanctions waiver

ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে রুশ ও ইরানি অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় যে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, এবার তা তুলে নিচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

কী জানালেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি?

একটি সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, চলতি সপ্তাহেই তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পাশাপাশি, রুশ তেলের ওপর দেওয়া ছাড়ের মেয়াদও এই সপ্তাহান্তেই ফুরোবে এবং তা আর নবীকরণ করা হবে না।

   

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বেসেন্ট বলেন, “আমরা রুশ এবং ইরানি তেলের ওপর জেনারেল লাইসেন্স আর নবীকরণ করব না। ১১ মার্চের আগে যে তেল সমুদ্রে ছিল, তার সবটাই ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে।”

ভারতের ওপর প্রভাব ও সমালোচনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী ছিল ভারত। সরকারি সূত্রের খবর, এই ছাড় কার্যকর হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের বরাত দিয়েছিল।

তবে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশ তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এই ছাড়ের ফলে পরোক্ষভাবে মস্কো এবং তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যাচ্ছে এবং তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

কী ছিল এই ৩০ দিনের ছাড়?

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয়ে পড়ে, তার জন্য গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছিল। এর ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলি নির্বিঘ্নে রাশিয়ান তেল কেনার সুযোগ পেয়েছিল।

পাশাপাশি, মার্চ মাসে চালু হওয়া অপর একটি ছাড়ের ফলে ইরান ২০ মার্চের আগে লোড করা প্রায় ১৪ কোটি (১৪০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছিল, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে এবং আকাশছোঁয়া দাম কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন যে কৌশল নিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞায় ছাড় না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সেই পদক্ষেপেরই সমাপ্তি নির্দেশ করছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google