ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব তাঁর হাতে।(Asim Munir) অন্যদিকে জেনারেল (ফিল্ড মার্শাল) আসিম মুনির পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান। কিন্তু একটি সাম্প্রতিক ভিডিও দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন আসলে পাকিস্তান সরকারের ‘নার্ভাস সিস্টেম’ কে নিয়ন্ত্রণ করছেন?ইরানের রাজধানী তেহরানে আমেরিকা -ইরান মধ্যস্থতা আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পৌঁছেছে।
দলে রয়েছেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। বিমানবন্দরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির স্বাগত জানানোর ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।ভিডিওতে দেখা যায়, বিমান থেকে প্রথমে নেমে আসেন আসিম মুনির। তিনি সামনে এগিয়ে গিয়ে ইরানি বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করেন এবং আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। আর মোহসিন নাকভি? তিনি পিছনে থেকে যান, প্রায় আড়ালে।
ক্যামেরায় তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, যেন তিনি শুধুমাত্র একজন সঙ্গী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেকে লিখছেন, “মোহসিন নাকভি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কিন্তু আসিম মুনিরের পিছনে লুকিয়ে আছেন। এটাই পাকিস্তানের বাস্তবতা।”পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ছবি শুধু প্রোটোকলের বিষয় নয়। এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বই মূল ভূমিকায়।
আরও দেখুনঃ কাঁথিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, ভোটারদের নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ অভিযান জোরদার
আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আসিম মুনিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যাওয়া এবং ভিডিওতে তাঁর প্রাধান্য দুটোই সেই বার্তা জোরালো করেছে। একজন সাবেক মন্ত্রী বলেছেন, “সিভিল সরকার আছে, কিন্তু আসল নিয়ন্ত্রণ যেখানে, সেটা আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।”মোহসিন নাকভি পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ।
তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কিন্তু এই ভিডিও দেখে অনেকে মনে করছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আসিম মুনিরের উপস্থিতি অনেক বেশি দৃশ্যমান। কেউ কেউ এটাকে ‘হাইব্রিড শাসন ব্যবস্থার’ প্রতিফলন বলে অভিহিত করছেন।



















