নন্দীগ্রাম: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় মহম্মদপুরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি হিন্দু-মুসলমান ভোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এবং সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন। একই সঙ্গে বিজেপি সরকার গড়লে বিভিন্ন ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিও দিলেন।
মুসলমান গ্রামে বিজেপির প্রচারে বাধা, হিন্দু গ্রামে তৃণমূল প্রচার করে
জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুসলমান গ্রামগুলিতে বিজেপির পতাকা নেই। মুসলমান গ্রামে বিজেপি প্রার্থী প্রচার করতে পারে না। অথচ হিন্দু গ্রামে তৃণমূল প্রার্থী প্রচার করে। সনাতনী কবে ঐক্যবদ্ধ হবেন বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও যোগ করেন, হিন্দুরা ভাগ হয়ে ভোট দিচ্ছেন, কিন্তু মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট করছেন। এই কারণে সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটের উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী মহম্মদপুরের দুটি বুথের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মহম্মদপুর হাইমাদ্রাসা বুথে আমি পাই ২ টা আর তৃণমূল পায় ৮০০। আবার মহম্মদপুর হাইস্কুল বুথে হিন্দু প্রধান বুথে ৭০০ ভোট পড়লে আমি পাই ৪০০, তৃণমূল ২৫০, সিপিএম এবং অন্যান্যরা ৫০।”
তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, “একটু ভেবেছেন আপনারা (হিন্দুরা)? ভাগ হচ্ছেন আর ওরা মুসলমান ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট করছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হিন্দু ভোটারদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
১লা জুনের পর ভাতা দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি
জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত মানুষদের সামনে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “এখন বিভিন্ন ভাতা সহ যদি ৬ হাজার টাকা পায় তাহলে ১লা জুন বিজেপি সরকার গড়ার পর সেই টাকার পরিমাণ ১২ হাজার। আর যারা ১২ হাজার পায় তারা ২৪ হাজার টাকা পাবেন।”
তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন:
যারা এখন লক্ষ্মীর ভান্ডারে ১৫০০ টাকা পাচ্ছেন তারা পাবেন ৩০০০ টাকা।
বার্ধক্য ভাতা ১০০০ থেকে বেড়ে ২০০০ হবে।
যুবসাথীর টাকা ১৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ করা হবে।
শুভেন্দু জানান, এই টাকা শুধু পাঁচ বছরের জন্য নয়। “যতদিন না কর্মসংস্থান হয় ততদিন দেওয়া হবে।”
নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নন্দীগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা। শুভেন্দু অধিকারী এখানকার প্রার্থী হিসেবে এবারও নির্বাচনে লড়ছেন। তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় ঐক্য ও ভোটের হিসেব নিয়ে আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, হিন্দু ভোট ভাগ হয়ে গেলে প্রতিপক্ষ লাভবান হয়।
এদিনের জনসভায় উপস্থিত স্থানীয় মানুষরা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। শুভেন্দুর ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি অনেককে আকৃষ্ট করেছে। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার গড়লে সাধারণ মানুষের আর্থিক সুবিধা বাড়বে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য
শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য নন্দীগ্রামসহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যদিকে ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
নন্দীগ্রামের মানুষ এখন অপেক্ষায় আছেন কোন দল ক্ষমতায় আসবে এবং প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়। শুভেন্দুর বক্তব্য দেখিয়ে দিল যে, এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় ঐক্য এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি দুটোই বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।




















