গান্ধীনগর: গান্ধীনগরের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল (Ajit Doval)একটি শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি নিজে অজিত দোভালকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন। ভাষণে দোভাল বলেন, “ইতিহাসের দীর্ঘ সময় পর ভারতে এক নতুন জাগরণ দেখা দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব নয়।
এটি সমগ্র দেশের দায়িত্ব। এটাই আমাদের যৌথ শক্তি। একসঙ্গে এই যৌথ শক্তি জাতীয় মনোবল গড়ে তোলে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় নিরাপত্তায় শুধু সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়, দেশের ইচ্ছাশক্তি এবং মানসিক দৃঢ়তা সমান গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্র, শৃঙ্খলা, টিমওয়ার্ক এবং আধুনিক জ্ঞান এগুলোই আজকের নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন ধরনের হুমকির যুগে এই যৌথ সচেতনতা আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় বদল, ৩২ দলে বাড়ছে এলিট প্রতিযোগিতা
রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের প্রথম এমন প্রতিষ্ঠান যেখানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অধ্যয়নের ওপর আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দোবালের ভাষণ তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যারা আজ ডিগ্রি নিচ্ছ, তোমাদের ভূমিকা শুধু চাকরি বা পেশায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তোমরা দেশের নিরাপত্তার স্তম্ভ হয়ে উঠবে।
তোমাদের মধ্যে যে জ্ঞান, দক্ষতা ও দেশপ্রেম রয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।দোভালের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারত বিভিন্ন সীমান্তে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চীন-পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা, সাইবার আক্রমণ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি সব মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী অসাধারণ, কিন্তু তাদের পাশে যদি সমগ্র জাতি না দাঁড়ায়, তাহলে পূর্ণ শক্তি অর্জন সম্ভব নয়।
প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা সচেতন হতে হবে ছোট থেকে বড়, ছাত্র থেকে শিক্ষক, কৃষক থেকে শিল্পপতি সবাই।”রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ও এআই-এর যুগে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার ধারণা এখন আর শুধু সীমান্তে থেমে নেই, এটি ডিজিটাল স্পেসেও বিস্তৃত। অজিত দোভালকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে রাষ্ট্রপতি তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানকে স্বীকৃতি দেন। দোভালের নেতৃত্বে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত ও আধুনিক হয়েছে বলে মনে করা হয়।



















